১২ তারিখের বিপ্লবে জিতা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো অপশন নাই বলে ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাদ আছর নারায়ণগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের নূরবাগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মনির কাসেমী এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এদেশে আমরা শতকরা ৯০% মুসলমান। আমরা যেনো এদেশে মুসলিম জাতিসত্তা নিয়ে টিকে থাকতে পারি, সেজন্য মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম যুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার মতো একমাত্র দল বিএনপি যারা এই ওয়াদা ব্যক্ত করেছেন যে, যদি তারা ক্ষমতায় যেতে পারেন তাহলে সংবিধানে ‘আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ প্রতিস্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আমরা গোলামের জিন্দেগী যাপন করেছি। মসজিদে মন খুলে কথা বলতে পারিনি। আমাদের মা-বোনরা ঘরে বাইরে নিরাপদ ছিলো না। কত জুলুম অত্যাচার আমরা সহ্য করেছি।যে ফ্যাসিস্ট আমাদের উপর এতো অত্যাচার করেছে, তাকে বিতাড়িত করে কি নব্য ফ্যাসিস্টের হাতে দেশের চাবি দিতে চাই? যদি না চাই তাহলে ১২ তারিখে এ আসনে খেজুর গাছ মার্কায় ভোট দিয়ে বিপ্লব করুন। সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন, ১২ তারিখে আমরা জিতবোই জিতবো ইনশাআল্লাহ। কেননা ১২ তারিখের বিপ্লবে জিতা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো অপশন নাই।
তিনি বলেন, যারা সমাজকে মাদকমুক্ত করতে চান, তারা সবাই খেজুর গাছের নিচে চলে আসুন। আপনাদের সবাইকে বুকে টেনে নিবো। সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, এই আসনে সাড়ে পাঁচ লক্ষ ভোটারের ১১ লক্ষ হাত যদি আমার হাতের সাথে লাগে। আর আমার হাত যদি তারেক রহমানের হাতের সাথে লাগে তাহলে এই দেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে বেশি সময় লাগবে না ইনশাআল্লাহ।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনিরুল আলম সেন্টু, হাজী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মো. বাবুল আহমেদ, আলহাজ্ব মাজহারুল আলম মিথুন, মোঃ এস এম আনিসুর রহমান, মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ মাসুম আহমেদ রাজু, মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, হাজী মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপি শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মেম্বার বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেজুর গাছ আর ধানের শীষ মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
তিনি বলেন, পৃথিবীর মাঝে সবচে’ বড় হলো কুরআন শরীফ। আমাদের প্রার্থী মুফতি মনির কাসেমী একজন হাফেজ। একজন মুফতি। এই পুরো কুরআন শরীফ তার ভেতরে আছে। তাই তিনি কোনো অন্যায় কিছু করবেন না। কুরআন শরীফ যেমন পবিত্র তার চরিত্রও তেমনি পবিত্র।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন, “বিএনপি সমর্থিত কোনো প্রার্থী যদি বিজয়ী হয় আর বিএনপি যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে তিনি সরকার থেকে সহজেই বরাদ্দ নিয়ে আসতে পারেন।
আর এই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির কাসেমী যদি এমপি হোন, তাহলে সবচে বেশি অনুদানের টাকা নারায়ণগঞ্জে আনতে পারবেন। কেননা তারেক রহমানের খুবই বিশ্বস্ত মানুষ তিনি। তাই আপনারা যদি এ আসনের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে চান, একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে চান তাহলে মুফতি মনির কাসেমীকে খেজুর গাছে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন।
কেননা স্বতন্ত্র প্রার্থী কখনো সরকার গঠন করতে পারে না। আর তিনি কখনো সরকারের থেকে জোর করে কিছু আদায়ও করতে পারবেন না। অতএব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেওয়া মানে আপনার ভোটটি জলে ফেলে দেওয়া। আপনি আপনার আমানত মূল্যবান ভোটকে জলে ফেলে দিবে না।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যারা বিএনপির ভোট চান, তাদের উদ্দেশ্য করে বারী ভুঁইয়া বলেন, হাতী খাওয়া হারাম। হরিণ বড়লোকের খাবার, গরিবরা হরিণ খেতে পারে না। আর ফুটবল নিজেই লাথি খায়। কিন্তু খেজুর গাছের সব কিছু উপকারী। খেজুর গাছে যে রস হয় তা দিয়ে গুড় হয়। খেজুর গাছে ফল হয়। আর খেজুর ফল খেলে শরীর ভালো থাকে।
তাই যারা হাতী, হরিণ আর লাথি খাচ্ছেন তারা খেজুর খেতে আমাদের দলে চলে আসুন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু সবাইকে সুসংবাদ দিয়ে বলেন, আমরা আগে জেনেছিলাম আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ব্যালেট পেপারে ধানের শীষ থাকবে। কিন্তু জনাব তারেক রহমানের তদবিরের কারণে এ আসনের ব্যালট পেপারে ধানের শীষ থাকবে না।
তিনি প্রার্থীকে বিষয়ে বলেন,
মুফতি মনির কাসেমী আমাদের জন্য আল্লাহর দান। আমরা তাকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করছি।
তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, কেউ কেউ শত শত কোটি টাকা ইনভেস্ট করছেন। তারা নাকি টাকার জোড়ে বিজয় ছিনিয়ে নিবে। আমি বলতে চাই, বিএনপির কর্মীরা টাকার লোভী নয়। তারা দল ভালবাসেন। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি মা-বোনদের লক্ষ করে বলেন, প্রিয় মা-বোনেরা, আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। বোঝাবেন যে মুফতি মনির কাসেমী তারেক রহমানের প্রার্থী। তিনি ধানের শীষের প্রার্থী। আমাদের এবারের মার্কা খেজুর গাছ।
তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘এখানে যারা আছি, আমরা প্রতিটি মানুষ মনির হোসেন কাসেমী হয়ে কাজ করবো। তাহলেই আমরা বিজয় লাভ করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং নির্বাচনে খেজুর গাছ মার্কার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



















