নারায়ণগঞ্জজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—১২ ফেব্রুয়ারির ভোট। পাড়া-মহল্লা থেকে বাজার, চায়ের আড্ডা থেকে রাজনৈতিক কার্যালয় সবখানেই নির্বাচনী উত্তাপ। দীর্ঘ দেড় দশক পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যা ইতোমধ্যে জেলার ইতিহাসে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে রূপ নিয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ায় ভোটের লড়াই জমে উঠেছে।
জেলায় প্রায় ২৪ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী দিনের নেতৃত্ব। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর সরকার প্রতিষ্ঠা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সবার নজর রয়েছে।
জেলার সার্বিক চিত্র
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৭০ জন।
এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন, নারী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২০ জন।
ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০২টি ভেন্যুতে ৭৯৭টি কেন্দ্র। প্রশাসনের হিসাবে এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাসদ, সিপিবি, রিপাবলিকানসহ বিভিন্ন দলের মোট ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
আসনভিত্তিক সংক্ষিপ্ত চিত্র
🔹 নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর–বন্দর)
মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন।
১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ঝুঁকিপূর্ণ।
এ আসনে স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দলের প্রার্থী মিলিয়ে ১০ জন লড়াই করছেন।
🔹 নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর আংশিক)
ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন।
১৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ১১ জনের মধ্যে।
🔹 নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ–সোনারগাঁ)
ভোটার ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন।
২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ—সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র এ আসনেই।
মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
🔹 নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার)
ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন।
১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ।
এখানে ৬ জন প্রার্থী মাঠে।
🔹 নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ)
ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন।
১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্ত লড়াই ৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির জানিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আচরণবিধি পর্যবেক্ষণে কাজ করছেন ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।



















