জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, ২০২৪ সালে প্রায় দুই হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন, তবুও দেশে সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতা বন্ধ হয়নি। আগে যেমন এসব অপরাধ চলত, এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক। এই চাওয়া থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, অনেকেই আমাদের নরম মানুষ মনে করে নির্যাতনের চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা কী করতে পারি, তা অতীতে সবাই দেখেছে। কেউ যদি মনে করে আমাদের মা বোনদের হুমকি দিয়ে কিংবা ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করবে বা ভোটকেন্দ্র দখল করবে, তাহলে সেই চেষ্টাকে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। ভোটকেন্দ্র দখলে যে হাত বাড়াবে, জনতার শক্তিতেই সেই হাত ভেঙে দেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা এলাকাকে অনিরাপদ করে তুলেছে। এই অঞ্চলে মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি নির্মাণ কিংবা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। গার্মেন্টস পোড়ানোর হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। জালিমদের কীভাবে প্রতিহত করতে হয়, তা তাদের জানা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে আগামী ১২ তারিখ শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ। অন্যথায় এই এলাকার সাধারণ মানুষকে আবারও সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নির্যাতনের শিকার হতে হবে। তার মতে, মুক্তির একমাত্র পথ হলো সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচন করা—যারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদককে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না।
তিনি বলেন, এতদিন যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা নিজেদের জমিদার মনে করে জনগণের দুর্ভোগকে পুঁজি করেছে। রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ না করে মানুষকে কষ্টে রেখেছে, যেন ভোগান্তির কারণে জনগণ বারবার তাদের কাছে যেতে বাধ্য হয়। এই ধরনের রাজনীতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন।
মনির কাসেমীকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, কেউ যদি চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, অথচ তার আশপাশেই চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজরা অবস্থান করে, তাহলে মানুষ তাকে বিশ্বাস করবে না। মানুষের বিশ্বাস তখনই আসবে, যখন কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকবে। যে দলের ভেতরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা নেই, তারাই প্রকৃত পরিবর্তন এনে দিতে পারবে।
এদিন সকালে বক্তবলী ইউনিয়নে এনসিপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা গণসংযোগ করেন। পরে বিকেলে ফতুল্লার পাগলা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

















