নারায়ণগঞ্জে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছেন। একাধিক আসনে তারা বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় ভোটার ও নেতাদের সমর্থন, ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় প্রচারণার কারণে কিছু আসনে তারা উল্লেখযোগ্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কয়েকটি আসনে চমক দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফলকে অনিশ্চিত করতে পারেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিভক্ত। এখানে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে দাঁড়িয়েছেন ৪৪ জন। নারায়ণগঞ্জের ভোটের সমীকরণ অনুযায়ী, বিএনপি মনোনীত ও জোট প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জোর টক্কর দিতে সক্ষম। তাদের প্রচারণা, জনপ্রিয়তা এবং নিজস্ব কর্মীবাহিনী ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের লড়াই প্রাধান্য পাচ্ছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে ওঠা মাকসুদ হোসেন এখন ভোটের মাঠে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। জাতীয় পার্টির সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক এবং নিজের এলাকাজুড়ে কর্মীবাহিনী ও সমর্থকের কারণে তিনি বিশেষ প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমীকে টক্কর দিচ্ছেন বিএনপি থেকে স্বতন্ত্র হওয়া শাহ আলম। সাবেক নেতা ও শিল্পপতি শাহ আলম দলীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়েছেন, তবে তার নিজের পরিচিতি ও প্রভাবশালী অঞ্চলে সমর্থন বজায় আছে। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে সক্রিয়, তার কর্মী-সমর্থকরা দলীয় বাধা অগ্রাহ্য করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানকে শেষ মুহূর্তে টক্কর দিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সাবেক এমপি হওয়ার কারণে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে এবং সিদ্ধিরগঞ্জে তার শক্ত ঘাঁটি গড়ে উঠেছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ বিএনপির প্রার্থী হলেও দুইবারের সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী সমর্থন ধরে রেখেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্লিন ইমেজের কারণে আঙ্গুরের প্রভাব অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিদ্রোহী প্রভাব সীমিত থাকায় বিএনপি প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু) এগিয়ে রয়েছেন। অন্যান্য স্বল্পপ্রভাবশালী প্রার্থীরা ভোটের ফলাফলে বড় চমক আনতে পারবে না বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিছু আসনে চমক দেখাতে পারেন, যা ভোটের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে দেবে।



















