শিল্প ও বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ এখন নানা সামাজিক সমস্যায় চাপে রয়েছে। মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের কারণ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জেলার পাঁচটি আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সামনে এসব সমস্যা সমাধানই প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নজরুল ইসলাম আজাদ ও আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা বাড়ছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও পরিবহন, পরিবহন ও ব্যবসা খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অনেকদিনের। কিশোর গ্যাংয়ের কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। এসব কারণে শুধু সামাজিক অস্থিরতাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শহর–বন্দর, ফতুল্লা–সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ শিল্পাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের বসবাস। সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। রান্নার গ্যাস সংকট নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।
শিল্পাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপে শহরে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন প্রার্থীরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ও এক বক্তব্যে শহরের একাধিক স্থানে মাদক ব্যবসার বিষয় তুলে ধরে তা নিয়ন্ত্রণের কথা বলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে পারলে নবনির্বাচিত এমপিরা দ্রুত জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। তবে শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর অভিযান ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরাও চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা ও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ এমপির সামনে এখন বড় পরীক্ষা—মাদক ও চাঁদাবাজি দমন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প ও নাগরিক সমস্যার টেকসই সমাধান। নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার বাস্তব পদক্ষেপে বদলাবে পরিস্থিতি।












