নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন জামতলা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জামতলা এলাকার হীরা কমিটি সেন্টারের গলিতে খোকন সাহেবের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত নারীকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত আরেফিন আলম (৩৪) ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার স্বামী সোহান চৌধুরী (৩৬)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার রাতেও তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র রূপ নেয় এবং উত্তেজিত হয়ে স্বামী সোহান চৌধুরী রান্নাঘরে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।
হঠাৎ হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন আরেফিন আলম। তার চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় অবস্থিত ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল পাঠিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সোহান চৌধুরী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আহত আরেফিন আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তার স্বামী সোহান চৌধুরী বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্য বলে স্থানীয়রা জানান। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেফিন আলম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখন কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরে বিস্তারিত জানাবো।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ মান্নান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



















