নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, একসময় শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এত স্বচ্ছ ছিল যে তা ডাবের পানির সঙ্গে তুলনা করা হতো। অনেক মানুষ সেই নদীর পানি পানও করতেন। কিন্তু বর্তমানে নদীটি এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে পার হওয়ার সময় নাক চেপে ধরতে হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ আয়োজিত প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধিবিষয়ক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, অতীতে শীতলক্ষ্যা নদী ছিল মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত এবং জেলেরা নিয়মিত মাছ শিকার করতেন। কিন্তু বর্তমানে নদীতে সেই অবস্থা আর নেই। নদীর আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে খাল খনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে খননের সময় টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই একে পুরোপুরি বন্ধ করা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয়, তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম বলেন, নারায়ণগঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, নদীগুলো রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় বিপদের মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে পরিবেশে মাইক্রো প্লাস্টিকের উপস্থিতি এতটাই বেড়েছে যে তা মানবদেহের ভ্রূণ ও মস্তিষ্কেও শনাক্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিককে কেবল বর্জ্য হিসেবে দেখলে চলবে না; সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ হিসেবেও কাজে লাগানো সম্ভব।
নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজগর হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ফটোগ্রাফিক ক্লাবের কো-ফাউন্ডার আলোকচিত্রশিল্পী জয় কে রায় চৌধুরী এবং মঈন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চিত্রশিল্পী মুনতাসির মঈনসহ অন্যান্যরা।
আয়োজকরা জানান, ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ প্রায় তিন দশক ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং পরিবেশ দূষণ মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তর করতে তারা পাইরোলাইসিস তেলসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে।
‘জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিষেবা প্রদানের জন্য জনগণের অভিযোজন পরিকল্পনা’ প্রকল্পের আওতায় ১১ ও ১২ মার্চ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম দিনে নাসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা, ছবি আঁকা ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে। বৃহস্পতিবার বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করেন নাসিক প্রশাসক।



















