নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের পাইলিং মেশিনের পাইপ পড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে এ আলোচনায় মধ্যস্থতার অভিযোগ রয়েছে জেলা তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মুনতাসীর ইসলাম হামজা (৫) ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার মো. রুবেলের ছেলে। তার ডাকনাম ইয়াছিন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর ভবন মালিকপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় একটি মসজিদে বসে আলোচনা হয়। সেখানে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
নিহত শিশুর বাবা রুবেল জানান, ঘটনার সময় তিনি কাজের জন্য কুমিল্লায় ছিলেন। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তাকে তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সন্তানের মৃত্যুর বিনিময়ে টাকা নিতে তিনি রাজি নন এবং এ ঘটনার আইনি বিচার চান।
তবে সন্তানের মরদেহ ময়নাতদন্তে দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন রুবেল। তার ভাষ্য, সন্তান মারা যাওয়ার পর আবার মরদেহ কাটাছেঁড়া করতে দিতে মন সায় দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অনুরোধেই তিনি আলোচনায় বসেছিলেন। তার দাবি, পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় ঠিকাদার কিছু আর্থিক সহায়তা দিতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করা হয়েছিল।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, নির্মাণাধীন ভবনে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলেও ব্যবহৃত পাইপগুলো সরানো হয়নি। ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পাইপ পড়ে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং এতে ভবন মালিক ও ঠিকাদারের অবহেলার বিষয়টি রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















