নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণের পর বিচার চাওয়ায় মারধর ও শরীরে আগুন দিয়ে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার মাধবপাশা এলাকার ওই গৃহবধূর দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এ সময় স্বামীর ছোট ভাই একাধিকবার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ বিকেলে নিজ ঘরে এমন একটি ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি স্বামী, শাশুড়ি ও ননদদের জানিয়ে বিচার চাইলে তারা উল্টো তাকে মারধর করে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৮ মার্চ সকালে স্বামী, দেবর, শাশুড়ি ও দুই ননদ মিলে তাকে আবারও মারধর করে। একপর্যায়ে তার স্বামী গ্যাস লাইটের আগুন দিয়ে তার পরনের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসার কথা বলে তাকে বন্দর ঘাট এলাকায় রেখে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গত ১২ মার্চ বিকেলে তাকে বন্দর ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



















