নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলিরটেক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখার ওপর পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে থাকা মানুষজন প্রতীকী লাশ নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকা সেতুর অভাবে প্রায় ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন। এলাকার দক্ষিণ পাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাট-বাজার ও কবরস্থান থাকলেও উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। এমনকি কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও লাশ দাফনের জন্য সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হয়।
এলাকাবাসী খাটিয়ায় করে একটি প্রতীকী লাশ নিয়ে ধলেশ্বরী নদীর শাখার ওপর নির্মিত সাঁকো পার হন। দাফনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবিতে এই প্রতীকী কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চর আলিরটেক, সমিনগর, ঘরকুল, সবুজ নগর, গঞ্জকুমারিয়াসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করেন।
স্থানীয় সমাজসেবক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি বছর খরা মৌসুমে গ্রামের মানুষ নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সেটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তখন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় গর্ভবতী নারীদের। অনেক সময় তাদের কাঁধে বা কোলে করে হাসপাতালে নিতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে ওপার থেকে ডাক্তার এনে বাড়িতেই চিকিৎসা করাতে হয়।
স্কুল শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসে। ফলে অনেকেই সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারে না, আবার কেউ কেউ ভয় পেয়ে আসতেই চায় না। এতে আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী নিয়াজের ভাষায়, বৃষ্টির সময় ছাতা ও বই নিয়ে সাঁকো পার হওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়। তখন বুঝতে পারি না ছাতা ধরব নাকি বাঁশ ধরে রাখব।
এলাকাবাসী জানান, ধলেশ্বরীর শাখা নদীর ওপর অনেক আগে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। পাশের এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটি এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলে খুব একটা কাজে আসে না।
প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন হাজার মানুষ এই পথে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাই গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



















