আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব নিতে পারেন এমন সম্ভাবনা দেখছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড–৩’-এর ফলাফল প্রকাশ করে বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং। জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ, নির্বাচন পরিবেশ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমত জানতে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। আগের রাউন্ডে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মতামতের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করাও ছিল এই জরিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ এবারও ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। আগে যারা ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এবার মত বদল করেছেন।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা।
আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ভোট পছন্দের ক্ষেত্রে ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নারী ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার হার তুলনামূলক বেশি। জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি আগে সিদ্ধান্তহীন ও অন্যান্য দলের কিছু ভোটারও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটব্যাংকে এখনো কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারণার ধরন অনুযায়ী দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।



















