আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি বন্দর শাখা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ সুপার এবং বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী রিপনের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরকে ঘিরে বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় কিছু সিএনজি, মিশুক ও অটোরিকশা চালক এবং খেয়া পারাপারের নৌকার মাঝিরা সংগঠিতভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে। এতে যাত্রীদের হয়রানি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বন্দরের বিভিন্ন খেয়াঘাটে নৌকার নির্ধারিত ধারণক্ষমতা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যেখানে একটি নৌকায় সাধারণত ৬ জন যাত্রী নেওয়ার কথা, সেখানে ১২ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নদী পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক সময় যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ এমনকি মানসিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। একইভাবে ঈদ উপলক্ষে অটোরিকশা ও মিশুক চালকদের মধ্যেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বিষয়টিতে দ্রুত প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। পাশাপাশি নৌকায় অতিরিক্ত মালামাল বহন নিষিদ্ধ করা, সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া তালিকা প্রকাশ করে দৃশ্যমান স্থানে টানানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।



















