বিএনপি-জমিয়ত মনোনীত জোটপ্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেছেন, “গোগনগরের সঙ্গে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক। ১৯৭৪ সালে দেওভোগ মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে ভুট্টা নেওয়ার জন্য আমি গোগনগরে আসতাম। এখানে আমার মায়ের মামাবাড়ি। সেই স্মৃতিগুলো আজও অম্লান। গোগনগর ইউনিয়ন আমার ঘরের মতো। ঘরের উন্নয়নের কথা আলাদা করে বলতে হয় না—আমি ঘরের মতো করেই এ অলাকার উন্নয়ন করবো, ইনশাআল্লাহ।”
রোববার (১ ফেব্রুয়ারী) বাদ মাগরিব গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যালয়ে গোগনগর ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মুফতি মনির কাসেমী আরও বলেন, “ইউনিয়নের ১৩ জন জনপ্রতিনিধি—ওয়ার্ড মেম্বার ও চেয়ারম্যানসহ পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যদের নিয়ে একটি উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হবে। তারা যে প্রস্তাবনা দেবেন, সরকারী বরাদ্দের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকার অলিগলি পর্যন্ত উন্নয়ন নিশ্চিত করবো।”
মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী সবশেষে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী পাঁচ বছরে যদি আমি গোগনগর ইউনিয়নকে যথাযথভাবে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে আর কখনো আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবো না।”
ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর মিয়াজী তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে খেজুর গাছের ফলন করেছি। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ আমরা তার ফসল ঘরে তুলবো। আমরা তাহাজ্জুদের সময় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবো। কেউ যাবো আর কেউ যাবো না—এমন যেন না হয়। ১২ তারিখ রাতেই আমরা আমাদের প্রার্থীকে বিজয়ের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিতে চাই।”
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলাদলের সভানেত্রী রহিমা শরীফ মায়া বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান একজন ঈমানদার প্রার্থী আমাদের উপহার দিয়েছেন। তিনি হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো মানুষকে কাছে টানছেন। মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার পেছনে ছুটে চলেছেন। আজ গোগনগর ইউনিয়নের বিএনপির কর্মীরা যে ঘাম ঝরিয়েছে, ইনশাআল্লাহ কাসেমী সাহেব সেই ঘামের মূল্য দেবেন। কারণ আমাদের নবীজি (সা.) মানুষের ঘামের মর্যাদা দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী যেভাবে গোগনগর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন, তাতেই প্রমাণ হয়—গোগনগরের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। “আজ একজন লাঠিভর দেওয়া ব্যক্তিকেও দেখেছি, তিনি দূর পথ হেঁটে আমাদের প্রার্থীর পেছনে এসেছেন। এটি মানুষের ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
গোগনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেন বলেন, “আজ গোগনগরবাসী যে অবস্থান দেখিয়েছে, তা যদি ১২ তারিখ পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।”
গণসংযোগ ও ব্রিফিং শেষে নেতাকর্মীরা ১২ তারিখ শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান এবং খেজুর গাছ প্রতীকে বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















