সহধর্মিনীর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অল্প কিছুদিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফিরে আবারও দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে এটিএম কামাল পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া-এর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে এবং বিশ্বমঞ্চে মর্যাদার সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এ বিষয়ে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দল ও দেশের জন্য কাজ করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি জানান, দলের প্রয়োজনে গত ১৭ বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দুঃসময়ে পাশে থাকা দায়িত্ব এবং সুসময় দেখাকে প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চার বছর বহিষ্কৃত থাকলেও দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ধৈর্যের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
এটিএম কামাল আরও জানান, পঞ্চাশের অধিক মামলা, নির্যাতন এবং পারিবারিক বাস্তবতার কারণে অসুস্থ সহধর্মিনীকে নিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হয়েছিল। সেখানে নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি।
৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর দেশে ফেরার আগ্রহ তীব্র হলেও জীবিকা ও বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে তিনি দেশে ফেরার উদ্যোগ নেন এবং কোনো পদ-পদবি ছাড়াই নারায়ণগঞ্জজুড়ে দলের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, দলের নিরঙ্কুশ বিজয় তার দীর্ঘ সংগ্রামের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করেছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের বড় সার্থকতা।
বর্তমানে তার সহধর্মিনী গুরুতর অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের মতে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কায় তাকে নিয়ে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তিনি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষে এটিএম কামাল বলেন, দেশ ও দলের প্রয়োজনে তিনি আজীবন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।














