দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত গণভোটে এখন পর্যন্ত পাওয়া আংশিক ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটই এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৬টির আংশিক ফল প্রকাশিত হয়েছে। অধিকাংশ আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের স্পষ্ট প্রাধান্য দেখা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো জনগণের মতামতের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ছাড়া বাকি সব আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে।
বিভিন্ন আসনের চিত্র
নেত্রকোনার পাঁচটি আসনে অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। একইভাবে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা), ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল), ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) এবং রাজশাহী–১ আসনেও ‘হ্যাঁ’ ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া হবিগঞ্জ–১, পাবনা–২, পটুয়াখালী–১, কুমিল্লা–৭ ও ৮, পিরোজপুর–২, জয়পুরহাট–২, বাগেরহাট–১ ও ৩, চট্টগ্রাম–১, ৭, ১৪ ও ১৫, ফেনী–২ ও ৩ এবং চাঁদপুর–৩ আসনেও সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের লিড রয়েছে।
তবে ব্যতিক্রম রয়েছে পার্বত্য দুই জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে। আংশিক ফলাফলে এ দুই আসনে ‘না’ ভোটই এগিয়ে আছে।
🗳️ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কী পরিবর্তন আসবে
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী—
প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা আসবে
রাষ্ট্রপতির কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা বাড়বে
সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে বহুপক্ষীয় কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক হবে
সংসদ সদস্যদের ভোটদানের স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে
সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; উচ্চকক্ষ গঠিত হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে
সংবিধান সংশোধনে উভয় কক্ষের সমর্থন প্রয়োজন হবে
এ ছাড়া একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—এমন প্রস্তাবও রয়েছে।
সংস্কার প্রক্রিয়ার পটভূমি
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ শুরু হয়। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগসহ একাধিক ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ৮৪টি প্রস্তাবে ঐকমত্য গড়ে ওঠে, যার মধ্যে ৪৮টি সংবিধান–সম্পর্কিত।
সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নে তিন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি, গণভোট এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত পরিষদ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে।
সব মিলিয়ে, গণভোটের এ ফলাফল দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে সংস্কারের পথ কতটা দ্রুত এগোবে।



















