দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী শাহ আলমের স্ত্রী ইসরাত জাহান সুমির বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
তাদের অভিযোগ, আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাহ আলম ‘হরিণ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সুমি বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের কাছে ‘ধানের শীষ’ ও ‘হরিণ’ একই প্রতীক এমন বিভ্রান্তিকর ধারণা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ বিষয়ে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষেই মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে নেতারা বলেন, “জোটের প্রার্থীকে সম্মান দিয়ে খেজুর গাছের মধ্যেই ধানের শীষকে খুঁজে নিতে হবে।”
তবে ফতুল্লার পাঁচটি ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম নিজেকে ‘বিএনপির প্রকৃত প্রার্থী’ দাবি করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী সুমি ধানের শীষ সামনে রেখে গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভা করছেন, যা ভোটারদের মধ্যে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, ধানের শীষ প্রতীক দেখিয়ে হরিণ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইছেন সুমি। এমনকি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাদের পক্ষে কাজ করাতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন ফতুল্লা থানা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা।
এদিকে বক্তাবলীতে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর এক গণসংযোগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, “বিএনপির মূলধারার সবাই মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তারা দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। এই আসনে বিএনপির মার্কা হলো খেজুর গাছ, এবং ওনাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব স্বয়ং তারেক রহমান আমাদের দিয়েছেন।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানের শীষের জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে সহানুভূতি ও ভোট আদায়ের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা দলের ভেতরে চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন বিএনপি নেতা বলেন, “লজ্জা মানুষের অমূল্য সম্পদ। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও কেউ কীভাবে ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করে ভোট চাইতে পারে তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



















