ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন মহল। শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৌশলগত এলাকায় টহল, বিশেষ অভিযান ও যৌথ বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হয়। এর ফলে সম্ভাব্য সহিংসতা ও অপরাধমূলক তৎপরতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনজুড়ে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অপরাধপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল বাড়ানো এবং অভিযানের মাধ্যমে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করায় সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করতে দেখা গেছে অনেককে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সক্রিয় অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। যৌথ অভিযানে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও দৃঢ় করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির বিভিন্ন অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র, মাদক ও নগদ অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এসব ক্যাম্প থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ে এক হাজারের বেশি সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
ভোটের আগের রাত থেকে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারি ছিল। কোথাও বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। ফলে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
তবে ভোট-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি এলাকায় প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায়ও সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি সেই আশঙ্কা কমিয়ে আনে। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিমত, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়েছে।



















