নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, টেন্ডার বাণিজ্য এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে ওমর ফারুক বন্দর উপজেলা যুবদলের নাম ব্যবহার করে উপজেলা পরিষদে প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন সময় টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যদিও তিনি নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন, অভিযোগ রয়েছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
সূত্রগুলো জানায়, ওমর ফারুককে একাধিকবার বন্দরে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের অন্যতম দোসর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদ, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, বন্দর উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি সালিমা হোসেন শান্তা এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর ফয়সাল মো. সাগরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দেখা গেছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা ছিল, সে সময় ওমর ফারুক নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মাকসুদের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেন। স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে তিনি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন।
বর্তমানে চলমান এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে বিজয়ী করতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই সময়েও ওমর ফারুক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের (ফুটবল প্রতীক) পক্ষে সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাকসুদের অবৈধভাবে উপার্জিত কালোটাকা ভোটের মাঠে ছড়িয়ে দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলা করার চেষ্টা করছেন ওমর ফারুক। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদকে অবহিত করা হবে এবং ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।




















