ভোটগ্রহণের দিন জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে জরুরি সেবা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত কিছু যানবাহনকে এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নির্বাচন কমিশনের বৈধ স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহন এবং চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত গাড়ি চলাচল করতে পারবে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, প্রশাসন ও অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের গাড়িও নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। বিদেশগামী যাত্রী বা বিদেশফেরত স্বজনদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যানবাহন চলাচলের অনুমতি থাকবে।
জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের জন্য ছোট আকারের একটি করে গাড়ি (কার/জিপ) ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসি অনুমোদিত টেলিকম সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের গাড়ি চলাচলেও বাধা থাকবে না।
রাজধানীবাসীর জন্য স্বস্তির খবর হলো ভোটের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, প্রয়োজনে যাত্রী চাপ সামাল দিতে ট্রেনের সংখ্যা বা ট্রিপ বাড়ানো হতে পারে।
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা আরোপের ক্ষমতা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি এড়াতে যাতায়াতের সময় প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















