ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভাও রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেছে। এই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। তবে তালিকায় জায়গা হয়নি নারায়ণগঞ্জের কোনো সংসদ সদস্যের।
অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ থেকে একাধিক পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রয়াত রাজনীতিবিদ আব্দুল মতিন চৌধুরী। তিনি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক রেজাউল করিম তিনবার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে ত্রয়োদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে এগারো দলীয় জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি জয়ী হয়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নজরুল ইসলাম আজাদ ও অ্যাডভোকেট আবুল কালামের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় ছিল, শেষ পর্যন্ত তারা কেউই মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জেলার অন্তত একজন সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় থাকলে জাতীয় পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জের দাবি-দাওয়া আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হতো। এখন প্রশ্ন—মন্ত্রিসভার বাইরে থেকেও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কতটা কার্যকরভাবে জেলার স্বার্থ তুলে ধরতে পারবেন।
















