বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী বলেছেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেন—মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তার ভাগ্য পরিবর্তন করবেন না।” ভাগ্য পরিবর্তনের সেই লড়াই এ জাতি ইতিহাসে বহুবার করেছে এবং প্রতিবারই সফল হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩ টায় নতুন কোর্ট এলাকায় আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মডেল গ্রুপের কর্ণধার মাসুদুজ্জামান মাসুদ, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর প্রমুখ।
এ ভাগ্য আমরা একবার পরিবর্তন করেছি ইংরেজদের বিতাড়িত করে। তখন নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতৃবৃন্দ।
১৯৯০ সালে ২৩ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিলো। আজকের মঞ্চে যারা বসা তারা সেই আন্দোলন করেছিলো। ২০০১ সালে বিএনপি জোট করে সে সময় ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছিলো। আবার ২০২৪ সালে আমার ছাত্র ভাইয়েরা যখন জেগে উঠেছিলো তখন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে লেডি ফেরাউন মামা বাড়ী দিল্লিতে পালাতে বাধ্য হয়েছিলো।
তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখে আপনারা খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট দেবেন। সেই ভোট শেষ পর্যন্ত ধানের শীষে যোগ হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিলো। মানুষ ইট বালু কিনবে তাও নিজের পছন্দ মতো কিনতে পারতো না। জোরজবরদস্তির মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলো। এখন আর সে সুযোগ নেই। আপনারা নির্বিঘ্নে বাড়িঘর নির্মাণ করবেন, নিজের পছন্দমতো যেকোনো জায়গা থেকে নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করবেন- কেউ কোনো বাধা দিতে পারবে না। নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমাদের জিততে হবে। এর বিকল্প দ্বিতীয় কোনো কথা নেই। তাই ফতুল্লার মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি কোনো চাঁদাবাজকে নির্বাচিত করবে? নাকি সৎ, সুশীল ও ভালো মানুষকে তাদের অভিভাবক হিসেবে নির্ধারণ করবে। এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতিজ্ঞা করতে হবে তারা কাকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে?
তিনি জেলা বিএনপির আহবায়ক জনাব মামুন মাহমুদের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় আমাদের জিততে হবে। জিতার বাইরে অন্য কোনো অপশন আমাদের সামনে নেই।
তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও চলছে। এমনকি এই মাঠেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ঘরের ইঁদুরে যেন ভাণ্ড না কাটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন,অতীতে আপনারা বারবার যে খেলার কথা বলেছেন সে খেলা ১২ তারিখে হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা সে খেলায় অংশগ্রহণ করে খেজুর গাছে ভোট দিবেন।
তিনি উপস্থিতিদের লক্ষ্য করে জিজ্ঞেস করেন, আগামী ১২ তারিখে আমরা সিল মারবো কোন মার্কায়? সবাই সমস্বরে জবাব দেয় খেজুর গাছে। এরপর শ্লোগান দিয়ে বলেন, সিল মারো ভাই সিল মারো, খেজুর গাছে সিল মারো।
বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, আজ চার আসনের জোট থেকে নমিনেশন যিনি পেয়েছেন তার পক্ষে কথা বলার জন্যই এখানে।হাজওর হয়েছি। এটা আমাদের দায়িত্বের মাঝে পড়ে। কেননা আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব দিয়েছেন তাকে জয়যুক্ত করার জন্য। আমরা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো ইনশাআল্লাহ।
কেননা তিনি অত্যন্ত সুশীল। খুব ভালো মানুষ। সারাক্ষণ মানুষ তাকে নিয়ে ট্রল করছে। অনলাইনে বুলিং করছে। তিনি চুপ থাকেন।। তাই সবাই মনে করে তিনি দূর্বল। আসলে না তিনি খুবই শক্তিশালী মানুষ।
অনেকে মনে করেন তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। আসলে না। তিনি গণতন্ত্রের লড়াই করেছেন। জেল খেটেছেন। যা তারেক রহমান নিজেই আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে বলেছেন। তিনি জেল।খেটেছেন। লড়াই করেছেন। নির্যাতিত হয়েছেন। এখন সময় এসেছে তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া। আমরা সবাই মিলে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করলে তিনি মন্ত্রী হবেন। আপনারা কি চান না নারায়ণগঞ্জ থেকে একজন মন্ত্রী হোক? তাহলে তাকে খেজুর গাছে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, যারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন তারাও বলছেন আমরা বিএনপির প্রার্থী। এটা একটা হাস্যকর।
আমাদের এই নারায়ণগঞ্জে জনাব তারেক রহমান যখন এসেছিলেন তখন মনির কাসেমীর হাত উঁচু করে দেখিয়েছেন। আমার মনে হয় না আর কোনো প্রার্থী তারেক রহমানের সঙ্গে দুই দুইবার
যারা বিএনপিকে সমর্থন করেন তারা কোনো ভাইয়ের রাজনীতি করবেন না। ভাইয়ের সমর্থন ছেড়ে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আপনারা তাকেই নির্বাচিত করুন।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া বলেন, আমাদের চার আসনে কিছু কিছু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বলছে আমি বিএনপির লোক। তারা মিথ্যা বলছে। তারা।মুনাফেক। কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলেন। বিএনপির সবচেয়ে বড় ব্যক্তি কে? তিনি মুফতি মনির কাসেমীর হাতে খেজুর গাছ দিয়ে বলেছেন আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মার্কা খেজুর গাছ।
মুমাফেকদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে আগামী ১২ তারিখে মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে খেজুর গাছে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।
ফতুল্লা থানা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মেম্বার বলেন, আপনারা গত ১৭ বছরের তিনটি নির্বাচনে কোনো ভোট দিতে পারেননি এবার সুযোগ এসেছে ভোট দেওয়ার। সুষ্ঠু পরিবেশে আপনারা খেজুর গাছে ভোট দিবেন এ আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। আপনাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের সুযোগ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
ফতুল্লা থানা শ্রমিকদলের সদস্য সচিব আল আমিন বলেন,
ফতুল্লা থানা কৃষকদলের আহবায়ক জুয়েল আরমান বলেন, আপনারা যারা এদিকে সেদিকে ঘোরাফেরা করছেন আমি সবাইকে সাবধান করে দিচ্ছি আপনারা দয়া করে ঘোরাফেরা না করে খেজুর গাছের ছায়াতলে আসুন। একসাথে আমি দেশ গড়ি। কেননা আমাদের নেতা নলেছেন সবার আগে বাংলাদেশ।
তাতীদলের ফতুল্লা থানা সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, আমাদের প্রতিক্ষিত নির্বাচন আগামী ১২ তারিখ। কিছু কুচক্রীমহল এখনো এ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাদের বলে দিতে চাই গত ১৭ বছর আমরা যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি আর কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের ঠেকাতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আপনারা দেখুন খেজুর গাছের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা আর কালবিলম্ব না করে দ্রুত খেজুর গাছের নিচে চলে আসুন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা বলেন, খেজুর গাছ আর ধানের শীষ ভাই ভাই, খেজুর গাছমার্কায় ভোট চাই। খেজুর গাছ যদি ফেল করে তাহলে বেগম খালেদা জিয়া ফেল করবে। খেজুর গাছ যদি ফেল করে তাহলে তারেক রহমান ফেল করবে। যেকোনো মূল্যে মনির ভাইকে নির্বাচন করে।পার্লামেন্টে পাঠাতে হবে। তাহলে আমাদের জলাবদ্ধতা দূর হবে। আমরা সন্ত্রাসমুক্ত হতে।পারবো। আমি আবারো বলছি। খেজুর গাছ ধানের শীষ ভাই ভাই, খেজুর গাছে ভোট চাই।
ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ বলেন, সবাই খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করুন।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ বলেন, ধানের শীষের অপর নাম খেজুর গাছ। যারা বলে আমাদের এখানে খেজুর গাছ নেই তারা মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।
তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দিনের যে আন্দোলন সংগ্রাম জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম কাধে কাধ মিলিয়ে আমাদের সাথে আন্দোলন করেছেন।
যারা বিএনপির নাম ইউজ করে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন তারা নিজের সাথে নিজে প্রতারণা করছেন। খালেদা জিয়ার ত্যাগের সাথে আপনারা প্রতারণা করছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান ভিবা বলেন, আমি কখনো দলের সাথে কখনো সরাসরি দলের সাথে ছিলাম না। কিন্তু আমি মনেপ্রাণে বিএনপি। আমি জীবনে প্রথম যখন ভোট দিয়েছি তখন ধানের শীষেই ভোট দিয়েছি।



















