বন্দরে জশনে জুলুস, মহানবী (সা.)-এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত দিনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জশনে জুলুস। ধর্মীয় এই আয়োজনে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
রোববার (২৩ আগস্ট), ৯ রবিউল আউয়াল বেলা ৩টায় মদনগঞ্জ বটতলা থেকে জশনে জুলুসের মিছিল শুরু হয়। ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী-এর নেতৃত্বে মিছিলটি বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নবীগঞ্জ বাগে জান্নাত কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
জুলুস শেষে সেখানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে পবিত্র মিলাদ মাহফিল, দরুদ ও সালাম পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে আনন্দ প্রকাশ এবং জশনে জুলুসের আয়োজন নবীপ্রেম ও ঈমানি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা ও সম্মান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা সমুন্নত করেছেন। কোনো ধরনের বিরোধিতা কিংবা অপপ্রচার তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। বরং সময়ের সঙ্গে মহানবীর আগমনের আনন্দ উদযাপন আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজের বিভিন্ন অপরাধ ও অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হলে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় আগামী ১২ রবিউল আউয়াল, ২৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন সংলগ্ন বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে আয়োজিত বৃহত্তর জশনে জুলুসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
জশনে জুলুসে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট আবুল কালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এ সময় জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সহসভাপতি ডা. মো. নায়েব আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান গেলমান ও রাহাত হাসান রাব্বীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইসলামী যুব ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্রসেনা নারায়ণগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ হিজবুর রাসূল (সা.), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বন্দর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সবশেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বিশ্বমানবতার সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
বন্দরে জশনে জুলুস, মহানবী (সা.)-এর আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের পুণ্যস্মৃতিবিজড়িত দিনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জশনে জুলুস। ধর্মীয় এই আয়োজনে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
রোববার (২৩ আগস্ট), ৯ রবিউল আউয়াল বেলা ৩টায় মদনগঞ্জ বটতলা থেকে জশনে জুলুসের মিছিল শুরু হয়। ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী-এর নেতৃত্বে মিছিলটি বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নবীগঞ্জ বাগে জান্নাত কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
জুলুস শেষে সেখানে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরে পবিত্র মিলাদ মাহফিল, দরুদ ও সালাম পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে আনন্দ প্রকাশ এবং জশনে জুলুসের আয়োজন নবীপ্রেম ও ঈমানি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা ও সম্মান স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা সমুন্নত করেছেন। কোনো ধরনের বিরোধিতা কিংবা অপপ্রচার তাঁর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারবে না। বরং সময়ের সঙ্গে মহানবীর আগমনের আনন্দ উদযাপন আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজের বিভিন্ন অপরাধ ও অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ নানা সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হলে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় আগামী ১২ রবিউল আউয়াল, ২৬ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন সংলগ্ন বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে আয়োজিত বৃহত্তর জশনে জুলুসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
জশনে জুলুসে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট আবুল কালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
এ সময় জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সহসভাপতি ডা. মো. নায়েব আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান গেলমান ও রাহাত হাসান রাব্বীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ইসলামী যুব ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্রসেনা নারায়ণগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ হিজবুর রাসূল (সা.), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এবং বন্দর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সবশেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বিশ্বমানবতার সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন