মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমাজে প্রচলিত পুরোনো ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসায় আয়োজিত সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, একসময় সমাজে এমন ধারণা ছিল যে, শুধু দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফলে এ শিক্ষাব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিজেদের নিয়ে কোনো ধরনের হীনমন্যতায় ভোগার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, মাত্র দুইজন ছাত্রী নিয়ে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের জীবন গঠনের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসাকে কামিল পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়। একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল হক। তিনি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করেছেন, তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত ও বিদায়ী ৪৯ সদস্যের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার চেয়ারম্যান ডা. মো. আলী আশরাফ খান বলেন, যাদের মেধা, শ্রম ও ভালোবাসায় প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল, এইচ এম নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আবু হানিফ ও ব্যবসায়ী মর্তুজা খোকন।
আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদা আক্তার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুহতারিমা সাবিকুন্নেসা কলি ও মুতারিমা সাবাহ বিনতে সাঈদ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইউসা ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক শতাধিক পুরস্কার বিতরণ করা হয় ছাত্রীদের মধ্যে।
এ সময় অভিভাবক প্রতিনিধি মুফতি রহমতুল্লাহ ও অভিভাবক আবু নোমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ জাহাঙ্গীর কবির পোকনসহ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমাজে প্রচলিত পুরোনো ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সময়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের হীনমন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসায় আয়োজিত সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, একসময় সমাজে এমন ধারণা ছিল যে, শুধু দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাই মাদরাসায় পড়াশোনা করে। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফলে এ শিক্ষাব্যবস্থায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিজেদের নিয়ে কোনো ধরনের হীনমন্যতায় ভোগার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, মাত্র দুইজন ছাত্রী নিয়ে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের জীবন গঠনের লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসাকে কামিল পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যাশা রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এখানে ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মইনুদ্দিন আহমাদ বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল ভালো ফলাফল অর্জন নয়। একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল হক। তিনি প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় দীর্ঘদিন ধরে যারা কাজ করেছেন, তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। ইসলামিক সোসাইটি অব নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত ও বিদায়ী ৪৯ সদস্যের জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
সভাপতির বক্তব্যে আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার চেয়ারম্যান ডা. মো. আলী আশরাফ খান বলেন, যাদের মেধা, শ্রম ও ভালোবাসায় প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মো. বদিউজ্জামান বাদল, এইচ এম নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আবু হানিফ ও ব্যবসায়ী মর্তুজা খোকন।
আদর্শ মহিলা আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদা আক্তার অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুহতারিমা সাবিকুন্নেসা কলি ও মুতারিমা সাবাহ বিনতে সাঈদ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইউসা ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক শতাধিক পুরস্কার বিতরণ করা হয় ছাত্রীদের মধ্যে।
এ সময় অভিভাবক প্রতিনিধি মুফতি রহমতুল্লাহ ও অভিভাবক আবু নোমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ জাহাঙ্গীর কবির পোকনসহ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন