মিশুক ছিনতাই করতেই ওয়ালি উল্লাহকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | ৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মিশুকচালক ওয়ালি উল্লাহ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া মিশুক উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পিবিআই জানায়, গত ৫ জুলাই অসুস্থ বাবার পরিবর্তে মিশুক চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ জুলাই সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। একই দিনে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থান থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহতের বাবা হারুন রশিদ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ২ আগস্ট সোনারগাঁ এলাকা থেকে আওলাদ হোসেন (২৬) ও শাহিন (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বাড়ি থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের একটি সিম উদ্ধার করা হয়। পরদিন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া মিশুকটি।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনসহ চার থেকে পাঁচজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিশুক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে মিশুক ভাড়া নিয়ে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারের দিকে যায়। ফেরার সময় গ্রুপদী গ্রামের নির্জন এলাকায় পৌঁছে চালক ওয়ালি উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মিশুক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মিশুকটি ভবেরচর এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
মিশুক ছিনতাই করতেই ওয়ালি উল্লাহকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি | ৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মিশুকচালক ওয়ালি উল্লাহ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া মিশুক উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পিবিআই জানায়, গত ৫ জুলাই অসুস্থ বাবার পরিবর্তে মিশুক চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ৬ জুলাই সোনারগাঁ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। একই দিনে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন স্থান থেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নসহ তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহতের বাবা হারুন রশিদ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে আড়াইহাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিভিন্ন রুট বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ২ আগস্ট সোনারগাঁ এলাকা থেকে আওলাদ হোসেন (২৬) ও শাহিন (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট শাহিনের বাড়ি থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের একটি সিম উদ্ধার করা হয়। পরদিন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া মিশুকটি।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজনসহ চার থেকে পাঁচজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিশুক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে মিশুক ভাড়া নিয়ে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারের দিকে যায়। ফেরার সময় গ্রুপদী গ্রামের নির্জন এলাকায় পৌঁছে চালক ওয়ালি উল্লাহকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে তার মিশুক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মিশুকটি ভবেরচর এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ আগস্ট গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন