‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শনিবার নিজ নিজ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা। অভিযানের সময় বিভিন্ন মামলার আসামি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোনারগাঁ থানা এলাকায় ৫০টি ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে একজন মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সোনারগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হন নয়জন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অভিযানে ৩ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইনসহ একজন মাদক কারবারি, একজন মাদকসেবী এবং পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে ১৬ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পাঁচ সদস্যকে আটক করে।
এদিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন মাদকসেবী, একজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্য রয়েছেন। বন্দর থানা পুলিশ দুই মাদকসেবী, দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আরও একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা এনসিপি। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৩০০ ফুট এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাসুম চৌধুরী অপুর নেতৃত্বে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রূপগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলের প্রস্তুতির সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসব ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এবং ফতুল্লার ইসদাইর এলাকাতেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যসহ মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শনিবার নিজ নিজ এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা। অভিযানের সময় বিভিন্ন মামলার আসামি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোনারগাঁ থানা এলাকায় ৫০টি ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে একজন মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সোনারগাঁ থেকে গ্রেপ্তার হন নয়জন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অভিযানে ৩ দশমিক ৩ গ্রাম হেরোইনসহ একজন মাদক কারবারি, একজন মাদকসেবী এবং পরোয়ানাভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ থানায় মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে ১৬ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পাঁচ সদস্যকে আটক করে।
এদিকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুইজন মাদকসেবী, একজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্য রয়েছেন। বন্দর থানা পুলিশ দুই মাদকসেবী, দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ছাড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পৃথক অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আরও একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা এনসিপি। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৩০০ ফুট এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মাসুম চৌধুরী অপুর নেতৃত্বে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রূপগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলের প্রস্তুতির সময় ১৫ জনকে আটক করা হয়।
এ ছাড়া লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসব ঘটনার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক এবং ফতুল্লার ইসদাইর এলাকাতেও আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মিছিলের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন