১৬ লাখ টাকায় নির্মিত শৌচাগার ভাঙল রেলওয়ে, ওঠছে সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জনশৌচাগার উদ্বোধন বা জনসাধারণের ব্যবহারে আসার আগেই ভেঙে ফেলেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ শেষে স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও গত ১২ অক্টোবর রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, জমির মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল। এরপর স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাধারণ মানুষ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার আগেই সেটি উচ্ছেদের মুখে পড়ে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের জমিতে শৌচাগার নির্মাণের বিষয়ে আগে কোনো চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, স্থাপনাটি ভাঙার আগে তাদের জানানো হয়নি।
বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, শৌচাগারটি নির্মাণের পর তিনি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। ফলে নির্মাণকাজের সময় জমি নির্বাচন বা অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে সে সময় দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তথ্য দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি ভাঙার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’
উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, উচ্ছেদের পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তাদের জমিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বা অবহিত না করেই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণেই উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে শৌচাগার নির্মাণের জায়গাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড সচিব। তবে প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে থাকা মানেই কোনো জমি সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন—এমন নয়। তাই জমিটি আসলে কোন সংস্থার মালিকানায়, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি ও দাপ্তরিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে—সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় নির্মিত স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলো কেন? প্রকল্প গ্রহণের আগে জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমতি এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি জনসাধারণের কাজে লাগার আগেই ভেঙে পড়ায় সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে অনুমোদন, নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১৬ লাখ টাকায় নির্মিত শৌচাগার ভাঙল রেলওয়ে, ওঠছে সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি জনশৌচাগার উদ্বোধন বা জনসাধারণের ব্যবহারে আসার আগেই ভেঙে ফেলেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ শেষে স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও গত ১২ অক্টোবর রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, জমির মালিকানা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় শৌচাগারটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল। এরপর স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাধারণ মানুষ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার আগেই সেটি উচ্ছেদের মুখে পড়ে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের জমিতে শৌচাগার নির্মাণের বিষয়ে আগে কোনো চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়নি। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, স্থাপনাটি ভাঙার আগে তাদের জানানো হয়নি।
বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, শৌচাগারটি নির্মাণের পর তিনি ওই পদে যোগ দিয়েছেন। ফলে নির্মাণকাজের সময় জমি নির্বাচন বা অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে সে সময় দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তথ্য দিতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘এটি ভাঙার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’
উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, উচ্ছেদের খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, উচ্ছেদের পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তাদের জমিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বা অবহিত না করেই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণেই উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে শৌচাগার নির্মাণের জায়গাটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড সচিব। তবে প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে থাকা মানেই কোনো জমি সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন—এমন নয়। তাই জমিটি আসলে কোন সংস্থার মালিকানায়, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি ও দাপ্তরিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় আরেকটি প্রশ্ন উঠেছে—সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় নির্মিত স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হলো কেন? প্রকল্প গ্রহণের আগে জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমতি এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি জনসাধারণের কাজে লাগার আগেই ভেঙে পড়ায় সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন থেকে শুরু করে অনুমোদন, নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিটি ধাপে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন