বি পি নিউজ ২৪

মনির কাসেমীসহ অর্ধশত আলেম গ্রেফতারে সহযোগিতা করেন ফেরদৌস: জমিয়ত নেতা হারুন



মনির কাসেমীসহ অর্ধশত আলেম গ্রেফতারে সহযোগিতা করেন ফেরদৌস: জমিয়ত নেতা হারুন

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আমেলা (নির্বাহী পরিষদ) সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও অনাস্থা উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় পুরানা পল্টনের রিসোর্সফুল টাওয়ারের ১০ম তলায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিষয়টি উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুর ইসলাম আফেন্দি।

আলোচনার একপর্যায়ে মাওলানা ফেরদাউস দাবি করেন, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী-এর কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং জেলা পর্যায়ে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অনাস্থা ও অভিযোগ ইতোমধ্যে জমা পড়েছে, যা তার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মন্তব্যের পর মাওলানা ফেরদাউসকে নীরব থাকতে দেখা যায়।

পরে বক্তব্য দেন জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে র‍্যাব-১১ এর অভিযানে অর্থের বিনিময়ে তথ্য দিয়ে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ অর্ধশত আলেমকে গ্রেফতারে সহযোগিতা করেছিলেন মাওলানা ফেরদাউস। এছাড়া আরও কয়েকজন আলেমের গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন তিনি।

এছাড়াও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে পোলিং এজেন্ট স্লিপ বিক্রি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিরোধী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এমনকি নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করার মন্তব্য করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ উত্থাপনের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পুরো আলোচনার সময় মাওলানা ফেরদাউসকে নীরব ও মাথা নিচু করে থাকতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। মাওলানা তাফাজ্জল হক আজিজ-কে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া ও মাওলানা নাসির উদ্দিন খান-কে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৪ মে ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করেন, সভায় মাওলানা ফেরদাউস নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু অ-সদস্যকে নিয়ে আসেন এবং বাইরের লোকজনও উপস্থিত করেন, যা সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা মঞ্জুর ইসলাম আফেন্দি। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


মনির কাসেমীসহ অর্ধশত আলেম গ্রেফতারে সহযোগিতা করেন ফেরদৌস: জমিয়ত নেতা হারুন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় আমেলা (নির্বাহী পরিষদ) সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ও অনাস্থা উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় পুরানা পল্টনের রিসোর্সফুল টাওয়ারের ১০ম তলায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিষয়টি উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুর ইসলাম আফেন্দি।

আলোচনার একপর্যায়ে মাওলানা ফেরদাউস দাবি করেন, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী-এর কারণে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না এবং জেলা পর্যায়ে সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে এ সময় কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক জানান, জেলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অনাস্থা ও অভিযোগ ইতোমধ্যে জমা পড়েছে, যা তার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মন্তব্যের পর মাওলানা ফেরদাউসকে নীরব থাকতে দেখা যায়।

পরে বক্তব্য দেন জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে র‍্যাব-১১ এর অভিযানে অর্থের বিনিময়ে তথ্য দিয়ে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ অর্ধশত আলেমকে গ্রেফতারে সহযোগিতা করেছিলেন মাওলানা ফেরদাউস। এছাড়া আরও কয়েকজন আলেমের গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন তিনি।

এছাড়াও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে পোলিং এজেন্ট স্লিপ বিক্রি এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বিরোধী প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এমনকি নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করার মন্তব্য করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ উত্থাপনের সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। পুরো আলোচনার সময় মাওলানা ফেরদাউসকে নীরব ও মাথা নিচু করে থাকতে দেখা গেছে বলে জানা যায়।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। মাওলানা তাফাজ্জল হক আজিজ-কে প্রধান করে গঠিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া ও মাওলানা নাসির উদ্দিন খান-কে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৪ মে ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করেন, সভায় মাওলানা ফেরদাউস নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু অ-সদস্যকে নিয়ে আসেন এবং বাইরের লোকজনও উপস্থিত করেন, যা সংগঠনের নীতিমালার পরিপন্থী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা মঞ্জুর ইসলাম আফেন্দি। এতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ