এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দুনিয়ার সকল মেহনতী মানুষকে লাল সালাম ও বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রনেতা শাহিন মৃধা।
আজ ১লা মে উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা এক বিবৃতিতে বলেন:
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বহির্বিশ্বসহ বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের সকল শহীদদের। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে যে অগণিত নির্ভীক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের লড়াইয়ের নতুন জ্বালানি। এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ শ্রমিকদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক বাংলাদেশ, যেখানে শ্রমিকের ঘাম আর রক্তের মূল্য থাকবে সবার উপরে।
বিবৃতিতে শাহিন মৃধা আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও এবং রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজ আজও তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। শ্রমিকের ঐতিহাসিক অধিকার,আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা বিনোদন,আজও কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার জন্য শিক্ষা, সুযোগের সমতা ও সমঅধিকারের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এক অপরাজেয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের শিখিয়েছে যে রাজপথ ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয়। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই,ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।
বিবৃতিতে তিনি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরেন:
১. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
২. বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে সকল খাতে ন্যায্য ও মানবিক মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মালিক-রাষ্ট্রের শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও পরিচালনার অধিকার দিতে হবে।
৪. কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের অধিকার কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
পরিশেষে শাহিন মৃধা বলেন, আসুন, শহীদদের রক্তস্নাত এই জনপদে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতার বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে মেহনতী মানুষের লড়াইয়ে শামিল হই।
বিবৃতিদাতা
শাহিন মৃধা
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দুনিয়ার সকল মেহনতী মানুষকে লাল সালাম ও বিপ্লবী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রনেতা শাহিন মৃধা।
আজ ১লা মে উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা এক বিবৃতিতে বলেন:
আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বহির্বিশ্বসহ বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের সকল শহীদদের। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে যে অগণিত নির্ভীক শ্রমিক শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের লড়াইয়ের নতুন জ্বালানি। এই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ শ্রমিকদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক বাংলাদেশ, যেখানে শ্রমিকের ঘাম আর রক্তের মূল্য থাকবে সবার উপরে।
বিবৃতিতে শাহিন মৃধা আরও বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও এবং রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরেও বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজ আজও তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। শ্রমিকের ঐতিহাসিক অধিকার,আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা বিশ্রাম এবং আট ঘণ্টা বিনোদন,আজও কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবার জন্য শিক্ষা, সুযোগের সমতা ও সমঅধিকারের প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এক অপরাজেয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের শিখিয়েছে যে রাজপথ ছাড়া অধিকার আদায় সম্ভব নয়। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই,ন্যায্য মজুরি কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।
বিবৃতিতে তিনি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরেন:
১. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
২. বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে সকল খাতে ন্যায্য ও মানবিক মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মালিক-রাষ্ট্রের শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও পরিচালনার অধিকার দিতে হবে।
৪. কর্মক্ষেত্রে জীবনের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদনের অধিকার কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
পরিশেষে শাহিন মৃধা বলেন, আসুন, শহীদদের রক্তস্নাত এই জনপদে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতার বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলে মেহনতী মানুষের লড়াইয়ে শামিল হই।
বিবৃতিদাতা
শাহিন মৃধা
সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা

আপনার মতামত লিখুন