বি পি নিউজ ২৪

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২৭ ওয়ার্ডে নতুন সরঞ্জাম, মশককর্মীদের পুরস্কৃত করলেন সাখাওয়াত


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২৭ ওয়ার্ডে নতুন সরঞ্জাম, মশককর্মীদের পুরস্কৃত করলেন সাখাওয়াত

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত মশক নিধনকর্মীদের কাজের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগর ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে নাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান নিজ হাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের কাছে হ্যান্ড স্প্রে, হ্যান্ড মাইক ও কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মশক নিধনকর্মীদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। নাসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই তিন ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

ডেঙ্গু রোগী না থাকার এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আলতা মাশুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা এবং ১৫ জন মশক নিধনকর্মীকে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী মাঠকর্মীদের জন্য হ্যান্ড গ্লাভস, গামবুট ও মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে হ্যান্ড মাইক এবং মশক নিধনের কাজে ব্যবহারের জন্য দুটি করে হ্যান্ড স্প্রে বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গত তিন থেকে চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নাসিক এলাকায় প্রায় ৫০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে ২০০ গজের মধ্যে বিশেষভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আক্রান্ত এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সচিবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মশক নিধনকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হওয়াকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় প্রতি শনিবার নিজ নিজ ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরীর পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

নাসিক প্রশাসক জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিপরীতে ২ নম্বর ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হলেও পার্শ্ববর্তী ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী থাকায় এই তিন ওয়ার্ডকে একসঙ্গে বিবেচনা করে পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়নি। একইভাবে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী না থাকলেও ২৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই তিন ওয়ার্ডও পুরস্কারের আওতায় আসেনি।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উৎসাহিত করা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আরও সক্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। ভবিষ্যতে যেসব ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা শূন্যের মধ্যে রাখতে সক্ষম হবে, সেসব ওয়ার্ডের মশক নিধনকর্মীদেরও পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব ও মাঠপর্যায়ের মশক নিধনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডেঙ্গু প্রতিরোধে ২৭ ওয়ার্ডে নতুন সরঞ্জাম, মশককর্মীদের পুরস্কৃত করলেন সাখাওয়াত

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) ২৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কর্মরত মশক নিধনকর্মীদের কাজের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগর ভবনের পঞ্চম তলার সম্মেলন কক্ষে নাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান নিজ হাতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রতিনিধিদের কাছে হ্যান্ড স্প্রে, হ্যান্ড মাইক ও কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মশক নিধনকর্মীদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। নাসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই তিন ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

ডেঙ্গু রোগী না থাকার এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার আলতা মাশুল ইসলামকে ২ হাজার টাকা এবং ১৫ জন মশক নিধনকর্মীকে ১ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকারী মাঠকর্মীদের জন্য হ্যান্ড গ্লাভস, গামবুট ও মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে হ্যান্ড মাইক এবং মশক নিধনের কাজে ব্যবহারের জন্য দুটি করে হ্যান্ড স্প্রে বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। গত তিন থেকে চার মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নাসিক এলাকায় প্রায় ৫০০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে ২০০ গজের মধ্যে বিশেষভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আক্রান্ত এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।

ওয়ার্ড সচিবদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সচিবদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মশক নিধনকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হওয়াকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় প্রতি শনিবার নিজ নিজ ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরীর পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

নাসিক প্রশাসক জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ জন এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিপরীতে ২ নম্বর ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত না হলেও পার্শ্ববর্তী ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী থাকায় এই তিন ওয়ার্ডকে একসঙ্গে বিবেচনা করে পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়নি। একইভাবে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রোগী না থাকলেও ২৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই তিন ওয়ার্ডও পুরস্কারের আওতায় আসেনি।

মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উৎসাহিত করা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আরও সক্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। ভবিষ্যতে যেসব ওয়ার্ড ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা শূন্যের মধ্যে রাখতে সক্ষম হবে, সেসব ওয়ার্ডের মশক নিধনকর্মীদেরও পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা আলী, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচিব ও মাঠপর্যায়ের মশক নিধনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ