সোনারগাঁয়ে স্কুলে না গিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দেওয়া ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিনে দুই দফায় উপস্থিতি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাঈদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলার সব স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাদিবসে দুইবার শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিতে হবে। দিনের প্রথমবার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ঘণ্টার শুরুতে এবং দ্বিতীয়বার টিফিনের পরের ঘণ্টার শুরুতে উপস্থিতি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় দফার হাজিরায় অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী কেন অনুপস্থিত, তা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তারা পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর বালুরমাঠ এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়।
দুপুরের দিকে নদীতে নামার পর তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তারা হলো মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার মোহাম্মদ ফারুকের যমজ ছেলে আসেকিন (১৫) ও আরেফিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবির (১৪)। আসেকিন ও আরেফিন নবম শ্রেণির এবং আবির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
তাদের সঙ্গে থাকা আরেক শিক্ষার্থী নদী থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঢাকার ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে যমজ দুই ভাই আসেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা নজরদারির আওতায় আনতে দুই দফা হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে নির্দেশনাটিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে স্কুলে না গিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুল ফাঁকি দেওয়া ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিনে দুই দফায় উপস্থিতি যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাঈদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলার সব স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাদিবসে দুইবার শিক্ষার্থীদের হাজিরা নিতে হবে। দিনের প্রথমবার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ঘণ্টার শুরুতে এবং দ্বিতীয়বার টিফিনের পরের ঘণ্টার শুরুতে উপস্থিতি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
কোনো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় দফার হাজিরায় অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী কেন অনুপস্থিত, তা খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তারা পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর বালুরমাঠ এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়।
দুপুরের দিকে নদীতে নামার পর তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। তারা হলো মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার মোহাম্মদ ফারুকের যমজ ছেলে আসেকিন (১৫) ও আরেফিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবির (১৪)। আসেকিন ও আরেফিন নবম শ্রেণির এবং আবির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
তাদের সঙ্গে থাকা আরেক শিক্ষার্থী নদী থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ঢাকার ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে যমজ দুই ভাই আসেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং স্কুল ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা নজরদারির আওতায় আনতে দুই দফা হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে নির্দেশনাটিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
চিঠির অনুলিপি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন