ডিগ্রীচর খেয়াঘাটেই হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত সেতু, এগোচ্ছে প্রস্তাব
নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার দীর্ঘদিনের সেতু নির্মাণের দাবিতে নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান পর্যালোচনার পর ডিগ্রীচর খেয়াঘাটকে সেতু নির্মাণের স্থান হিসেবে প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজের প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ডিগ্রীচর খেয়াঘাট দিয়ে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যের পর আলীরটেক-বক্তাবলী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতাও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি ডিও লেটার পাঠান। সেখানে ডিক্রিরচর-বক্তাবলী ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা এবং প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ওই চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ডিক্রিরচর-মীরকাদিম সড়কের ডিগ্রীচর ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নদী পারাপারের বাধা কাটার সম্ভাবনা
আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে শহরের ২ নম্বর রেলগেট ও জিমখানা হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে নদী পার হয়ে আলীরটেক ইউনিয়ন এলাকায় যেতে হয়।
ফলে শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারই এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ হলে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে আলীরটেক, বক্তাবলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নদী পারাপারের বাধা কমলে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। একইভাবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর সময়ও কমতে পারে।
কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসায় বাড়তে পারে গতি
আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে নদী পারাপারের কারণে কৃষিপণ্য দ্রুত শহরের বাজারে পৌঁছাতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।
স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ চালু হলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের বাজারে দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ যোগাযোগে সম্ভাব্য নতুন সংযোগ
ডিগ্রীচরে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর মধ্যে নতুন যোগাযোগ সংযোগ তৈরির সুযোগ হতে পারে।
এর ফলে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিগ্রীচর খেয়াঘাট থেকে কাশীপুর হাটখোলা হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাপ্পী চত্বর পর্যন্ত সড়কটি সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পাশাপাশি পঞ্চবটি-মুসলিমনগর-বক্তাবলী হয়ে মুন্সিগঞ্জের তালতলা এবং বক্তাবলী-বেতকা সড়কও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ হলে শুধু নদী পারাপারের সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত সড়কগুলো উন্নত হলে নারায়ণগঞ্জ সদর, আলীরটেক, বক্তাবলী, কাশীপুর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাস্তবায়নের আগে পেরোতে হবে কয়েকটি ধাপ
ডিক্রিরচর-বক্তাবলী এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি। সম্প্রতি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষও সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটকে সেতু নির্মাণের স্থান হিসেবে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দীর্ঘদিনের দাবিটি এখন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে প্রস্তাব পাঠানোর পরও সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কারিগরি যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও দরপত্রসহ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি আসবে।
তারপরও জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতায় আলীরটেক-বক্তাবলী এলাকার দীর্ঘদিনের সেতু দাবিটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলোর অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডিগ্রীচর খেয়াঘাটেই হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত সেতু, এগোচ্ছে প্রস্তাব
নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার দীর্ঘদিনের সেতু নির্মাণের দাবিতে নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান পর্যালোচনার পর ডিগ্রীচর খেয়াঘাটকে সেতু নির্মাণের স্থান হিসেবে প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ফার্স্ট নিউজের প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ডিগ্রীচর খেয়াঘাট দিয়ে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের এই বক্তব্যের পর আলীরটেক-বক্তাবলী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সেতু নির্মাণের উদ্যোগে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে তৎপরতাও সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মার্মা স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি ডিও লেটার পাঠান। সেখানে ডিক্রিরচর-বক্তাবলী ঘাট এলাকায় সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা এবং প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ওই চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ডিক্রিরচর-মীরকাদিম সড়কের ডিগ্রীচর ঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নদী পারাপারের বাধা কাটার সম্ভাবনা
আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে শহরের ২ নম্বর রেলগেট ও জিমখানা হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে গেলে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে নদী পার হয়ে আলীরটেক ইউনিয়ন এলাকায় যেতে হয়।
ফলে শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারই এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা। ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ হলে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
সেতুটি নির্মিত হলে আলীরটেক, বক্তাবলীসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নদী পারাপারের বাধা কমলে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহনের চলাচল সহজ হবে। একইভাবে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর সময়ও কমতে পারে।
কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসায় বাড়তে পারে গতি
আলীরটেক ও বক্তাবলী এলাকার অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে নদী পারাপারের কারণে কৃষিপণ্য দ্রুত শহরের বাজারে পৌঁছাতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়।
স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ চালু হলে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের বাজারে দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ যোগাযোগে সম্ভাব্য নতুন সংযোগ
ডিগ্রীচরে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্ভাবনা। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়ে এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর মধ্যে নতুন যোগাযোগ সংযোগ তৈরির সুযোগ হতে পারে।
এর ফলে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিগ্রীচর খেয়াঘাট থেকে কাশীপুর হাটখোলা হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বাপ্পী চত্বর পর্যন্ত সড়কটি সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পাশাপাশি পঞ্চবটি-মুসলিমনগর-বক্তাবলী হয়ে মুন্সিগঞ্জের তালতলা এবং বক্তাবলী-বেতকা সড়কও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণ হলে শুধু নদী পারাপারের সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত সড়কগুলো উন্নত হলে নারায়ণগঞ্জ সদর, আলীরটেক, বক্তাবলী, কাশীপুর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাস্তবায়নের আগে পেরোতে হবে কয়েকটি ধাপ
ডিক্রিরচর-বক্তাবলী এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মাণ স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি। সম্প্রতি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষও সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আসছে।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ডিগ্রীচর খেয়াঘাটকে সেতু নির্মাণের স্থান হিসেবে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় দীর্ঘদিনের দাবিটি এখন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে প্রস্তাব পাঠানোর পরও সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কারিগরি যাচাই, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও দরপত্রসহ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি আসবে।
তারপরও জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতায় আলীরটেক-বক্তাবলী এলাকার দীর্ঘদিনের সেতু দাবিটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলোর অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন