বি পি নিউজ ২৪

ফতুল্লায় সিএনজিচালককে অস্ত্র দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে


প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফতুল্লায় সিএনজিচালককে অস্ত্র দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

পাওনা ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক সিএনজিচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবু মার্কেট এলাকার ‘কথিত’ যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত রুবেল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. জুলহাস (৪২)।

জুলহাসের অভিযোগ, রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকার রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেল হোসেনের অফিসে তাকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রুবেল তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পাওনা টাকা চাইলে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় জুলহাস রুবেল হোসেন, জাহাঙ্গীর, সুমন, মাসুদ ওরফে টুন্ডা মাসুদ ও শান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে জুলহাস উল্লেখ করেন, তিনি পরিবার নিয়ে সস্তাপুর এলাকায় আনোয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন এবং সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে পূর্বপরিচিত সিএনজিচালক জাহাঙ্গীরকে তিনি ১০ হাজার টাকা ধার দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও জাহাঙ্গীর টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছিলেন বলে অভিযোগ তার।

জুলহাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে শিবু মার্কেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় জাহাঙ্গীর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে রোববার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি জুলহাসের ভাড়া বাসায় যান। তাদের মধ্যে শান্ত ও টুন্ডা মাসুদ তাকে জানান, জাহাঙ্গীর তার পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন। তাদের সঙ্গে যেতে আপত্তি জানালে জোর করে তাকে শিবু মার্কেটের রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেলের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জুলহাস।

সেখানে নেওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে রুবেল হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে টাকা চাইলে গুলি করে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ জুলহাসের। পরে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলহাস জানান, ভবিষ্যতে আর পাওনা টাকা দাবি করবেন না—এমন কথা বলার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

তবে জুলহাসের করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেল হোসেন। তার দাবি, দুই সিএনজিচালকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।

রুবেল বলেন, দুই চালকের মধ্যে মারামারির সময় তার এক কর্মীকে চাবি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। পরে তিনি ওই চালককে কয়েকটি থাপ্পড় দিয়ে অপর চালকের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন বলে দাবি করেন।

থানায় অভিযোগের বিষয়ে রুবেল দাবি করেন, বাইরের কারও প্ররোচনায় তারা অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি তার কাছে এলে তিনি তা সমাধান করে দিয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


ফতুল্লায় সিএনজিচালককে অস্ত্র দেখিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পাওনা ১০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক সিএনজিচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবু মার্কেট এলাকার ‘কথিত’ যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত রুবেল হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. জুলহাস (৪২)।

জুলহাসের অভিযোগ, রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবু মার্কেট এলাকার রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেল হোসেনের অফিসে তাকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে রুবেল তাকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পাওনা টাকা চাইলে গুলি করে হত্যা ও লাশ গুমের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় জুলহাস রুবেল হোসেন, জাহাঙ্গীর, সুমন, মাসুদ ওরফে টুন্ডা মাসুদ ও শান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগে জুলহাস উল্লেখ করেন, তিনি পরিবার নিয়ে সস্তাপুর এলাকায় আনোয়ারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন এবং সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে পূর্বপরিচিত সিএনজিচালক জাহাঙ্গীরকে তিনি ১০ হাজার টাকা ধার দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও জাহাঙ্গীর টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করছিলেন বলে অভিযোগ তার।

জুলহাসের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বিকেলে শিবু মার্কেট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে দেখা হলে তিনি পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় জাহাঙ্গীর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে চড়-থাপ্পড় মারার পাশাপাশি এলাকায় থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে রোববার সন্ধ্যায় কয়েকজন ব্যক্তি জুলহাসের ভাড়া বাসায় যান। তাদের মধ্যে শান্ত ও টুন্ডা মাসুদ তাকে জানান, জাহাঙ্গীর তার পাওনা টাকা পরিশোধ করবেন। তাদের সঙ্গে যেতে আপত্তি জানালে জোর করে তাকে শিবু মার্কেটের রানী মা প্লাজার নিচতলায় রুবেলের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জুলহাস।

সেখানে নেওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে রুবেল হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে টাকা চাইলে গুলি করে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ জুলহাসের। পরে তাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলহাস জানান, ভবিষ্যতে আর পাওনা টাকা দাবি করবেন না—এমন কথা বলার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

তবে জুলহাসের করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেল হোসেন। তার দাবি, দুই সিএনজিচালকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।

রুবেল বলেন, দুই চালকের মধ্যে মারামারির সময় তার এক কর্মীকে চাবি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। পরে তিনি ওই চালককে কয়েকটি থাপ্পড় দিয়ে অপর চালকের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন বলে দাবি করেন।

থানায় অভিযোগের বিষয়ে রুবেল দাবি করেন, বাইরের কারও প্ররোচনায় তারা অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি তার কাছে এলে তিনি তা সমাধান করে দিয়েছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে সেটির ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ