বি পি নিউজ ২৪

বার ভবনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি, হেনস্তার শিকার সাখাওয়াত


প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বার ভবনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি, হেনস্তার শিকার সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে চলমান বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল আড়াইটার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে কয়েকজন আইনজীবী দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে থাকা উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ঘটনার সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওমর ফারুক নয়নসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হন। পরে তারা স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুটি পক্ষের অবস্থান তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আপত্তি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তরের বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকে মতবিরোধ চলছিল। মঙ্গলবারের আলোচনার সময় এসব বিষয় উঠে এলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে আদালত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও চেষ্টা করতে দেখা যায়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা শিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি আর বড় আকার ধারণ করেনি।

তবে ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের দিকে এগিয়ে এসে হামলা চালান। তার দাবি, এ সময় তাদের গালিগালাজ করা হয় এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করা হয়। পরে এর প্রতিবাদে তারা অপর পক্ষকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির দাবি করেন, তিনি সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে নিজের কক্ষে খাবার খাচ্ছিলেন। পাশের কক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের লোকজন উসকানিমূলক শব্দ করছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


বার ভবনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি, হেনস্তার শিকার সাখাওয়াত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে চলমান বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বার ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানসহ কয়েকজন আইনজীবী লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল আড়াইটার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কক্ষে কয়েকজন আইনজীবী দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে থাকা উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

ঘটনার সময় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওমর ফারুক নয়নসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আইনজীবী আহত হন। পরে তারা স্থানীয় হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে দুটি পক্ষের অবস্থান তৈরি হয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং পিপি আবুল কালাম আজাদ জাকির। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচন ছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপির দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আপত্তি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন স্থানান্তরের বিষয় নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকে মতবিরোধ চলছিল। মঙ্গলবারের আলোচনার সময় এসব বিষয় উঠে এলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়াতে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে আদালত এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সাখাওয়াত হোসেন খানকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যকেও চেষ্টা করতে দেখা যায়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, আইনজীবীরা শিক্ষিত মানুষ হওয়ায় তাদের সঙ্গে কথা বলার পর পরিস্থিতি আর বড় আকার ধারণ করেনি।

তবে ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান অভিযোগ করেন, সাখাওয়াত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাদের দিকে এগিয়ে এসে হামলা চালান। তার দাবি, এ সময় তাদের গালিগালাজ করা হয় এবং অতিরিক্ত পিপি ওমর ফারুক নয়নকে মারধর করা হয়। পরে এর প্রতিবাদে তারা অপর পক্ষকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ূন কবির দাবি করেন, তিনি সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যদের নিয়ে নিজের কক্ষে খাবার খাচ্ছিলেন। পাশের কক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের লোকজন উসকানিমূলক শব্দ করছিলেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপরপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ