বি পি নিউজ ২৪

সদস্য না হয়েও একতা সুপার মার্কেট দখলের অভিযোগ: সাধু সাজার চেষ্টা বিএনপির সভাপতি হিরণের



সদস্য না হয়েও একতা সুপার মার্কেট দখলের অভিযোগ: সাধু সাজার চেষ্টা বিএনপির সভাপতি হিরণের

মদনপুরে একতা সুপার মার্কেট দখলের পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাউসার আশার পুত্র ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে বোমা ফাটিয়েছেন বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ।

‎

‎বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর মদনপুরে একতা মার্কেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হীরন মার্কেটের বর্তমান দখলদারদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

‎

‎ওই সংবাদ সম্মেলনে মাজহারুল ইসলাম হিরন বলেছেন, এখনো একতা সুপার মার্কেটে দোসররা বিদ্যমান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমরা সমিতির মেম্বারদের নিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাকে নিয়ে আমরা তাদের অফিসে যাই। তখন তারা সবাই পালিয়ে গেছে। সেখানে থাকা মতিন ম্যানেজারকে আমরা প্রশ্ন করেছি। পরবর্তীতে তারা আর আসে নাই। বাবুল আর কাবিল তারা মার্কেটের কোন সদস্য না। তারা লুটপাট করে খায়। তারাই বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

‎

‎এদিকে হিরনের করা এই সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নেতৃবৃন্দরা।

‎

তাদের দাবি, মাজহারুল ইসলাম হিরন একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কেউ নন। এমন কি তিনি এই সমিতির সদস্যও না। একটি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তিনি সমিতির সদস্য না হয়েও মার্কেট দখল এবং সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য প্রদানই স্পষ্ট করে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই মার্কেটটিকে দখল করেছেন সমিতির মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন বিপদগামী সদস্যকে সাথে নিয়ে। সেই সাথে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন এই মার্কেট দখলের পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা তাকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। হিরনের বক্তব্যে আশার নাম বলতে শোনা গেছে।

‎

‎পাশাপাশি আমরা মার্কেট দখলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খলিল মেম্বার এবং তার বাহিনীর তান্ডব সন্ধ্যা হলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি, বহিরাগতদের মহড়া এসব বিষয় নিয়ে একটি কথাও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়নি।

‎

‎উল্টো তারা এমন বানোয়াট অভিযোগ করেছেন যেই অভিযোগ গুলো পূর্বেই সমবায় কর্মকর্তাদের তদন্তে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অভিযোগ গুলো সত্য নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কি হিরন সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের সেই তদন্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? এর আগেও এই হিরনের বিরুদ্ধে এএসপি ও ওসির কথা বলে একজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলো। এমন আচরণের কারণে তাকে দল থেকে শোকজও করা হয়েছিলো।

‎

‎সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানান, ২০০০ সালে "একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড" নারায়ণগঞ্জ জেলা সমবায় অফিস হতে নিবন্ধন নেয়া হয়। যার নিবন্ধন নাম্বার ৩৩৬।

‎সমবায় আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর অন্তর ১২ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিগত ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল আছে। সমবায় আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন আইনগত সুযোগ নেই।

‎

‎তবে কি বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন সরকার দলীয় লোক হয়ে সরকারের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাচ্ছেন? ক্ষমতার অপব্যহার সহ সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো দায়ের এবং মার্কেট দখল করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা সহ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করে রাখার দায়ে হিরনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।

‎

‎তারা আরো জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতির বৈধতা নিয়ে তারা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে কমিটির বিষয়ে স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেন। যা আদালত কর্তৃক না-মঞ্জুর হয়। ফলে সমবায়ের বর্তমান কমিটির বৈধতা সমবায় অফিস ও আদালত কর্তৃক মেনে নেয়া হয়।

‎

‎তবে কি এই বিএনপি নেতা আদালতের রায়কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? সমবায় আইন অনুযায়ী প্রতি বছর সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক অডিট করা হয়। উক্ত অডিট প্রতিবেদনে কখনও আর্থিক অনিয়ম এর বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই। তাদের প্রতিবেদনে বৈধ ও নির্বাচিত কমিটি হিসাবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির নাম উল্লেখ আছে।

‎একজন বহিরাগত হিসাবে সদস্য না হয়েও সমিতির নামে মিটিং ডাকা ও সমিতির অফিস দখল রাখার বিষয়টি সমবায় আইনে কোনভাবেই বৈধ নয়।

‎আমরা হিরনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

‎এ দিকে সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে এবং হিরন একতা সমবায় সমিতির সদস্য কিনা জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে হিরন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।

‎

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


সদস্য না হয়েও একতা সুপার মার্কেট দখলের অভিযোগ: সাধু সাজার চেষ্টা বিএনপির সভাপতি হিরণের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মদনপুরে একতা সুপার মার্কেট দখলের পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাউসার আশার পুত্র ও রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করে বোমা ফাটিয়েছেন বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরণ।

‎

‎বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর মদনপুরে একতা মার্কেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হীরন মার্কেটের বর্তমান দখলদারদের পক্ষে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

‎

‎ওই সংবাদ সম্মেলনে মাজহারুল ইসলাম হিরন বলেছেন, এখনো একতা সুপার মার্কেটে দোসররা বিদ্যমান। গত ২৩ সেপ্টেম্বর আমরা সমিতির মেম্বারদের নিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাকে নিয়ে আমরা তাদের অফিসে যাই। তখন তারা সবাই পালিয়ে গেছে। সেখানে থাকা মতিন ম্যানেজারকে আমরা প্রশ্ন করেছি। পরবর্তীতে তারা আর আসে নাই। বাবুল আর কাবিল তারা মার্কেটের কোন সদস্য না। তারা লুটপাট করে খায়। তারাই বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

‎

‎এদিকে হিরনের করা এই সংবাদ সম্মেলনের পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নেতৃবৃন্দরা।

‎

তাদের দাবি, মাজহারুল ইসলাম হিরন একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর কেউ নন। এমন কি তিনি এই সমিতির সদস্যও না। একটি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। তিনি সমিতির সদস্য না হয়েও মার্কেট দখল এবং সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য প্রদানই স্পষ্ট করে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই মার্কেটটিকে দখল করেছেন সমিতির মুষ্ঠিমেয় কয়েকজন বিপদগামী সদস্যকে সাথে নিয়ে। সেই সাথে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন এই মার্কেট দখলের পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা তাকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে শক্তি জুগিয়েছেন। হিরনের বক্তব্যে আশার নাম বলতে শোনা গেছে।

‎

‎পাশাপাশি আমরা মার্কেট দখলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খলিল মেম্বার এবং তার বাহিনীর তান্ডব সন্ধ্যা হলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি, বহিরাগতদের মহড়া এসব বিষয় নিয়ে একটি কথাও সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়নি।

‎

‎উল্টো তারা এমন বানোয়াট অভিযোগ করেছেন যেই অভিযোগ গুলো পূর্বেই সমবায় কর্মকর্তাদের তদন্তে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অভিযোগ গুলো সত্য নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কি হিরন সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের সেই তদন্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? এর আগেও এই হিরনের বিরুদ্ধে এএসপি ও ওসির কথা বলে একজনের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলো। এমন আচরণের কারণে তাকে দল থেকে শোকজও করা হয়েছিলো।

‎

‎সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানান, ২০০০ সালে "একতা সুপার মার্কেট মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড" নারায়ণগঞ্জ জেলা সমবায় অফিস হতে নিবন্ধন নেয়া হয়। যার নিবন্ধন নাম্বার ৩৩৬।

‎সমবায় আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর অন্তর ১২ সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিগত ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যার মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল আছে। সমবায় আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন আইনগত সুযোগ নেই।

‎

‎তবে কি বন্দর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম হিরন সরকার দলীয় লোক হয়ে সরকারের আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখাচ্ছেন? ক্ষমতার অপব্যহার সহ সরকারের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো দায়ের এবং মার্কেট দখল করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা সহ ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত করে রাখার দায়ে হিরনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।

‎

‎তারা আরো জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতির বৈধতা নিয়ে তারা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে কমিটির বিষয়ে স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেন। যা আদালত কর্তৃক না-মঞ্জুর হয়। ফলে সমবায়ের বর্তমান কমিটির বৈধতা সমবায় অফিস ও আদালত কর্তৃক মেনে নেয়া হয়।

‎

‎তবে কি এই বিএনপি নেতা আদালতের রায়কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন? সমবায় আইন অনুযায়ী প্রতি বছর সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক অডিট করা হয়। উক্ত অডিট প্রতিবেদনে কখনও আর্থিক অনিয়ম এর বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই। তাদের প্রতিবেদনে বৈধ ও নির্বাচিত কমিটি হিসাবে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির নাম উল্লেখ আছে।


‎একজন বহিরাগত হিসাবে সদস্য না হয়েও সমিতির নামে মিটিং ডাকা ও সমিতির অফিস দখল রাখার বিষয়টি সমবায় আইনে কোনভাবেই বৈধ নয়।


‎আমরা হিরনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

‎এ দিকে সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে এবং হিরন একতা সমবায় সমিতির সদস্য কিনা জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে হিরন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।

‎


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ