মেধা ও যোগ্যতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে: সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন
শিক্ষা ও মেধার প্রকৃত সার্থকতা ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই এর তাৎপর্য নিহিত। দেশপ্রেম, সততা ও সাহসের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা গেলে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করছে। এ দেশ থেকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী তৈরি হলেও সমাজে এখনো অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য বিদ্যমান। এর অন্যতম কারণ, মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার দেশের কল্যাণের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তবে এটিই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আরও পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তাদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, গবেষক, রাজনীতিবিদ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
দেশ গঠনে অবদান রাখার জন্য বড় কোনো পদে অধিষ্ঠিত হওয়া জরুরি নয় উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, সমাজের প্রত্যেক মানুষ নিজের অবস্থান থেকেই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন রিকশাচালক সততার সঙ্গে কাজ করে যেমন দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন, তেমনি একজন শিক্ষার্থী, শ্রমিক কিংবা অভিভাবকও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। বিপরীতে, কোনো উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাঁর শিক্ষা ও মেধা দেশের উপকারে আসে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ওই আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নিয়েছিলেন। কেউ রাজপথে নেমেছেন, কেউ শ্রমিক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, আবার কেউ আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশকে পরিবর্তন করতে হলে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ইতিবাচক প্রয়োগ এবং অন্যায় ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার মাধ্যমেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানস্থলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জানান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। অন্যদিকে শহীদ জিয়া হল সংস্কার না হওয়ায় বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযুক্ত স্থান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চুনকা পাঠাগারের মিলনায়তন তুলনামূলক ছোট হওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শওকত আলী এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি।
মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব সারফারাজ হক সজীব ও মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ান।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
মেধা ও যোগ্যতা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে: সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন
শিক্ষা ও মেধার প্রকৃত সার্থকতা ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেই এর তাৎপর্য নিহিত। দেশপ্রেম, সততা ও সাহসের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করা গেলে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করছে। এ দেশ থেকে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী তৈরি হলেও সমাজে এখনো অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য বিদ্যমান। এর অন্যতম কারণ, মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার দেশের কল্যাণের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তবে এটিই চূড়ান্ত সাফল্য নয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আরও পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। তাদের সামনে সম্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। নিজেদের যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, গবেষক, রাজনীতিবিদ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
দেশ গঠনে অবদান রাখার জন্য বড় কোনো পদে অধিষ্ঠিত হওয়া জরুরি নয় উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, সমাজের প্রত্যেক মানুষ নিজের অবস্থান থেকেই দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। একজন রিকশাচালক সততার সঙ্গে কাজ করে যেমন দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারেন, তেমনি একজন শিক্ষার্থী, শ্রমিক কিংবা অভিভাবকও নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন। বিপরীতে, কোনো উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাঁর শিক্ষা ও মেধা দেশের উপকারে আসে না।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ওই আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশ নিয়েছিলেন। কেউ রাজপথে নেমেছেন, কেউ শ্রমিক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন, আবার কেউ আন্দোলনকারীদের খাবার ও পানি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দেশকে পরিবর্তন করতে হলে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। মেধা ও যোগ্যতার ইতিবাচক প্রয়োগ এবং অন্যায় ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার মাধ্যমেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানস্থলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংবর্ধনা নিতে আসা শিক্ষার্থী ও অতিথিদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জানান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। অন্যদিকে শহীদ জিয়া হল সংস্কার না হওয়ায় বড় পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উপযুক্ত স্থান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চুনকা পাঠাগারের মিলনায়তন তুলনামূলক ছোট হওয়ায় বাধ্য হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শওকত আলী এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি।
মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব সারফারাজ হক সজীব ও মহানগর ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব মো. জহিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক নাজমুল ইসলাম এবং মহানগর ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক সিফাত দেওয়ান।

আপনার মতামত লিখুন