বি পি নিউজ ২৪

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার


প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য রুশ বাজারে প্রবেশ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মিয়া সাত্তার। রাশিয়ার ব্যবসায়িক মহলে পরিচিত এই ব্যবসায়ী ন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার।

বৃহস্পতিবার মস্কোতে রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠকে তাঁর নতুন দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। তিনি মিয়া সাত্তারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

পাদালকো জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশের বাজার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ, যৌথ উদ্যোগের উপযোগী খাত চিহ্নিত করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে বাধাগুলো শনাক্ত করা হবে কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কাউন্সিল। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ও সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে তুলে ধরে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো সরকারি পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। কাউন্সিলের কার্যক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়া বিভাগের প্রধান ভ্যাচেস্লাভ এরমোলায়েভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা দূর করা এবং আমদানি-রপ্তানির পণ্যের পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা মনে করেন, বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি, রসায়ন, কৃষি-শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

বৈঠকে মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো ও হালকা শিল্পে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শস্য সংরক্ষণের গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার সাবেক ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের স্থানে একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা।

মিয়া সাত্তার জানান, রুশ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য আমদানিও করা হচ্ছে। রাশিয়া এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে সরবরাহকারীদের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

তবে বাংলাদেশি পণ্যের রুশ বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

মিয়া সাত্তারের মতে, রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেকের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি মূলত তৈরি পোশাকশিল্প ও রূপপুর প্রকল্পকেন্দ্রিক। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে এই সীমিত ধারণা বদলাতে তিনি একটি সমন্বিত তথ্য পোর্টাল চালু, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং রুশ চেম্বার ও রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সহযোগিতায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের একক কোনো ফোরামের প্রয়োজন নেই, বরং নিয়মিত বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন।” ব্যবসায়িক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নির্দিষ্ট খাতের সমস্যা সমাধানে কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

বৈঠকে ‘প্রডইনটর্গ’-এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার সিরতসেভ বাংলাদেশে রুশ সার ও শস্য সরবরাহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কৃষি-শিল্পবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব করেন।

এ সময় কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট এবং ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। স্তানিস্লাভ সিমাকোভকে কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আগামী নভেম্বরে আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে ঢাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ এবং নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভা।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হলেন মিয়া সাত্তার

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য রুশ বাজারে প্রবেশ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা মিয়া সাত্তার। রাশিয়ার ব্যবসায়িক মহলে পরিচিত এই ব্যবসায়ী ন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার।

বৃহস্পতিবার মস্কোতে রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠকে তাঁর নতুন দায়িত্বের বিষয়টি সামনে আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। তিনি মিয়া সাত্তারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

পাদালকো জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশের বাজার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ, যৌথ উদ্যোগের উপযোগী খাত চিহ্নিত করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে বাধাগুলো শনাক্ত করা হবে কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে কাউন্সিল। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ও সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে তুলে ধরে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো সরকারি পর্যায়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। কাউন্সিলের কার্যক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়া বিভাগের প্রধান ভ্যাচেস্লাভ এরমোলায়েভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তবে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা দূর করা এবং আমদানি-রপ্তানির পণ্যের পরিসর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা মনে করেন, বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি, রসায়ন, কৃষি-শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।

বৈঠকে মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো ও হালকা শিল্পে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শস্য সংরক্ষণের গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার সাবেক ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের স্থানে একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা।

মিয়া সাত্তার জানান, রুশ কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও খাদ্যপণ্য আমদানিও করা হচ্ছে। রাশিয়া এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে সরবরাহকারীদের স্বীকৃতি বা অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়ার কার্যক্রমও চলছে।

তবে বাংলাদেশি পণ্যের রুশ বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়াকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজ করার প্রস্তাব দেন।

মিয়া সাত্তারের মতে, রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অনেকের কাছে বাংলাদেশের পরিচিতি মূলত তৈরি পোশাকশিল্প ও রূপপুর প্রকল্পকেন্দ্রিক। দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সম্পর্কে এই সীমিত ধারণা বদলাতে তিনি একটি সমন্বিত তথ্য পোর্টাল চালু, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং রুশ চেম্বার ও রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সহযোগিতায় উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, “আমাদের একক কোনো ফোরামের প্রয়োজন নেই, বরং নিয়মিত বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন।” ব্যবসায়িক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নির্দিষ্ট খাতের সমস্যা সমাধানে কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

বৈঠকে ‘প্রডইনটর্গ’-এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার সিরতসেভ বাংলাদেশে রুশ সার ও শস্য সরবরাহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কৃষি-শিল্পবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব করেন।

এ সময় কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট এবং ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। স্তানিস্লাভ সিমাকোভকে কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আগামী নভেম্বরে আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠককে কেন্দ্র করে ঢাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ এবং নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভা।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ