বি পি নিউজ ২৪

ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল আলমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রোববার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আব্দুর রহিম (৫০), নাজমুলের বোন আফরোজা বেগম (৪৫), ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), ভাই রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৬৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে সাত লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা ভাড়া নেন। অন্যদিকে, ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে তিনি স্বামীর কাছে যেতেন।

এজাহারে ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের স্বামীকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করতেন তাঁরা। তবে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সেই সহায়তা কমে গেলে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করেন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান ফারজানা। পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা সফল না হওয়ায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। পরে ওই মামলার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে আবারও সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ফারজানাও সেখানে যাতায়াত করতেন। চলতি মাসের ২০ তারিখ তিনি ওই বাসায় যান।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে ফারজানার স্বামীর বোনজামাই বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি ফারজানার বাবাকে ফোন করে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান।

খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ, আদালতে করা মামলা নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংসার করতে ভালো না লাগলে মরে যেতে বলা হয়েছিল ফারজানাকে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ভূইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, চিরকুটে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং তাঁর স্বামী নাজমুল আলমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল আলমের বাড়ি কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদার বাড়িতে। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


ফতুল্লায় কুবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: স্বামীসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলাম (২৫) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল আলমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রোববার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আব্দুর রহিম (৫০), নাজমুলের বোন আফরোজা বেগম (৪৫), ভাইয়ের স্ত্রী সায়মা আক্তার (২৫), ভাই রাসেল (৪২), সাইফুল আলম (৩৬) ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৬৮)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পারিবারিকভাবে সাত লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নাজমুল আলমের সঙ্গে ফারজানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরে নাজমুল মুন্সিগঞ্জের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেয়ে সেখানে বাসা ভাড়া নেন। অন্যদিকে, ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে তিনি স্বামীর কাছে যেতেন।

এজাহারে ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের স্বামীকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করতেন তাঁরা। তবে নাজমুল চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সেই সহায়তা কমে গেলে আসামিরা ফারজানার কাছে যৌতুক দাবি করেন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান ফারজানা। পারিবারিকভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা সফল না হওয়ায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি সিআর মামলা করেন। পরে ওই মামলার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে আবারও সংসার শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর প্রায় দুই মাস আগে নাজমুল এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি পেয়ে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ফারজানাও সেখানে যাতায়াত করতেন। চলতি মাসের ২০ তারিখ তিনি ওই বাসায় যান।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে ফারজানার স্বামীর বোনজামাই বাদীর ছেলেকে ফোন করে আগের মামলার বিষয়ে জানতে চান। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি ফারজানার বাবাকে ফোন করে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান।

খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ, আদালতে করা মামলা নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংসার করতে ভালো না লাগলে মরে যেতে বলা হয়েছিল ফারজানাকে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ভূইগড়ের কবরস্থান রোডে দেলোয়ারের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানার ওপর একটি চিরকুট পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, চিরকুটে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা লেখা ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় এবং তাঁর স্বামী নাজমুল আলমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মুসল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল আলমের বাড়ি কুমিল্লা জেলার কচুয়া থানার নুরপুর গ্রামের তালুকদার বাড়িতে। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ