বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক মো. রাসেল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের আদালতে মামলার বাদী ও এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদের আদালতে দুপুরে সাক্ষ্য দেন নিহত রাসেলের বাবা ও মামলার বাদী পিন্টু রহমান এবং দেওভোগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ। সাক্ষ্যগ্রহণের পর তাঁদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, দুই সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করেছেন আদালত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষীরা শামীম ওসমান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাসেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য দিয়েছেন। মামলার বাদী তাঁর ছেলের হত্যার ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমানের দাবি, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে রাসেল হত্যার সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জেরার সময় বাদী জানিয়েছেন, পুলিশের তৈরি করা এজাহারে তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে গত বছরের আগস্টে শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সংস্থাটির পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। অভিযোগপত্রে শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু, ছেলের শ্বশুর ফয়েজউদ্দিন লাভলু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের নামও রয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের দিন মামলার সাতজন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পিপি জানান, শামীম ওসমানসহ অন্য কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন রাসেল। তিন দিন পর, ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভোলাগাড়ি গ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন বাবা পিন্টু রহমান। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালত আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী পোশাকশ্রমিক মো. রাসেল হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জের আদালতে মামলার বাদী ও এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদের আদালতে দুপুরে সাক্ষ্য দেন নিহত রাসেলের বাবা ও মামলার বাদী পিন্টু রহমান এবং দেওভোগ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ। সাক্ষ্যগ্রহণের পর তাঁদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, দুই সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করেছেন আদালত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাক্ষীরা শামীম ওসমান ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাসেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত বক্তব্য দিয়েছেন। মামলার বাদী তাঁর ছেলের হত্যার ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমানের দাবি, আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে রাসেল হত্যার সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জেরার সময় বাদী জানিয়েছেন, পুলিশের তৈরি করা এজাহারে তিনি শুধু স্বাক্ষর করেছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত শেষে গত বছরের আগস্টে শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সংস্থাটির পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান। অভিযোগপত্রে শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটু, ছেলের শ্বশুর ফয়েজউদ্দিন লাভলু এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা ও যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের নামও রয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণের দিন মামলার সাতজন অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পিপি জানান, শামীম ওসমানসহ অন্য কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন রাসেল। তিন দিন পর, ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভোলাগাড়ি গ্রামে। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি হোসিয়ারি কারখানায় কাজ করতেন।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ওই বছরের ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন বাবা পিন্টু রহমান। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আদালত আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন