বি পি নিউজ ২৪

২ নম্বর রেলগেটে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে ডিসি অফিসে তর্ক


প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২ নম্বর রেলগেটে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে ডিসি অফিসে তর্ক
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ নগরীর দুই নম্বর রেলগেটে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘ফিরে দেখা ৭১’ অপসারণ ও স্থানান্তর নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সড়কের যানজট ও জায়গা ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তাদের মধ্যে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে ‘জেলায় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যানজট নিরসন’ শীর্ষক সেমিনারে ভাস্কর্যটি নিয়ে আলোচনা ওঠে।

সেমিনারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, চাষাঢ়ার পর দুই নম্বর রেলগেট নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে একটি ভাস্কর্য থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ভাস্কর্যটি সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি এর আশপাশের জায়গা অনেক দোকানদার দখল করে রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে রফিউর রাব্বি ওই জায়গা কী কারণে দখল হয়ে আছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

তবে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি। তিনি বলেন, ভাস্কর্যটি স্থাপনের আগে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল। এটি সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থাপন করা হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলীন হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। তাঁর মতে, ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে অন্য উপযুক্ত স্থানে প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি অতীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় সাবেক এমপি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পিতার বড় আকারের ছবি স্থাপনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, ‘ফিরে দেখা ৭১’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আলম মিয়া বলেন, ভাস্কর্যটি কোথায় থাকবে, তা নিয়ে শুধু আলোচনা না করে নাগরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আলোচনার একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ফিরে দেখা ৭১’ সরিয়ে নেওয়া হলেও দুই নম্বর রেলগেট এলাকাতেই সেটি রাখার চেষ্টা করা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, দুই নম্বর রেলগেটের জায়গা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য রেলের জায়গায় থাকা হোটেল ও আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরের পার্টি অফিসের কিছু অংশ সরিয়ে জায়গাটি বড় করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এরপর সবার সঙ্গে আলোচনা করে ওই এলাকাতেই ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্য নয়; বরং বিদ্যমান স্মারকটি অক্ষুণ্ন রেখে আরও সুন্দরভাবে স্থাপনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


২ নম্বর রেলগেটে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে ডিসি অফিসে তর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ নগরীর দুই নম্বর রেলগেটে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘ফিরে দেখা ৭১’ অপসারণ ও স্থানান্তর নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সড়কের যানজট ও জায়গা ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তাদের মধ্যে এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে ‘জেলায় সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যানজট নিরসন’ শীর্ষক সেমিনারে ভাস্কর্যটি নিয়ে আলোচনা ওঠে।

সেমিনারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, চাষাঢ়ার পর দুই নম্বর রেলগেট নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে একটি ভাস্কর্য থাকা উচিত বলে মত দেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ভাস্কর্যটি সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি এর আশপাশের জায়গা অনেক দোকানদার দখল করে রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে রফিউর রাব্বি ওই জায়গা কী কারণে দখল হয়ে আছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

তবে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি। তিনি বলেন, ভাস্কর্যটি স্থাপনের আগে থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল। এটি সরিয়ে অন্য জায়গায় স্থাপন করা হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিলীন হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। তাঁর মতে, ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলার পরিবর্তে অন্য উপযুক্ত স্থানে প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

তিনি অতীতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় সাবেক এমপি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পিতার বড় আকারের ছবি স্থাপনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে আফজাল হোসেন পন্টি বলেন, ‘ফিরে দেখা ৭১’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর আলম মিয়া বলেন, ভাস্কর্যটি কোথায় থাকবে, তা নিয়ে শুধু আলোচনা না করে নাগরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

আলোচনার একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘ফিরে দেখা ৭১’ সরিয়ে নেওয়া হলেও দুই নম্বর রেলগেট এলাকাতেই সেটি রাখার চেষ্টা করা হবে।

সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, দুই নম্বর রেলগেটের জায়গা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য রেলের জায়গায় থাকা হোটেল ও আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগরের পার্টি অফিসের কিছু অংশ সরিয়ে জায়গাটি বড় করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এরপর সবার সঙ্গে আলোচনা করে ওই এলাকাতেই ভাস্কর্যটি পুনঃস্থাপনের কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্য নয়; বরং বিদ্যমান স্মারকটি অক্ষুণ্ন রেখে আরও সুন্দরভাবে স্থাপনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ