যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তাকে সভাস্থল থেকে সরে যেতে হয়। পরে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থলের ভিডিও থেকে জানা গেছে।
জানা যায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে একটি সভার আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন। তার সেখানে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সভাস্থলের কাছে জড়ো হন।
একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান এবং শামীম ওসমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাদল মির্জা জানান, তার নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কর্মসূচিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির কোনো নেতাকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শামীম ওসমান দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ছিলেন না। ওই সময়ের পর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ছেড়েছেন বলে একাধিক সূত্রের দাবি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাওয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার পর তার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর আগে দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্য কোনো রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, গুম, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার জামতলার বাসভবনেও বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল বলে জানা যায়।
শামীম ওসমানের নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সেখানে বিএনপির বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি করেছে। তার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে তাকে সভাস্থল থেকে সরে যেতে হয়। পরে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ঘটনাস্থলের ভিডিও থেকে জানা গেছে।
জানা যায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে একটি সভার আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন। তার সেখানে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সভাস্থলের কাছে জড়ো হন।
একপর্যায়ে বিএনপি নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান এবং শামীম ওসমানকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাদল মির্জা জানান, তার নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ওই কর্মসূচিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির কোনো নেতাকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই শামীম ওসমান দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ছিলেন না। ওই সময়ের পর তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশ ছেড়েছেন বলে একাধিক সূত্রের দাবি। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাওয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শামীম ওসমানকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার পর তার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর আগে দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্য কোনো রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পর নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুন, গুম, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তার জামতলার বাসভবনেও বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল বলে জানা যায়।
শামীম ওসমানের নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে উপস্থিতি এবং সেখানে বিএনপির বিক্ষোভের ঘটনা নতুন করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি করেছে। তার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার দাবিও উঠেছে।

আপনার মতামত লিখুন