বি পি নিউজ ২৪

মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ থেকে জনমত গঠন: যেভাবে নারায়ণগঞ্জে এলো মেট্রোরেল


প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ থেকে জনমত গঠন: যেভাবে নারায়ণগঞ্জে এলো মেট্রোরেল

মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ থেকে জনমত গঠন: যেভাবে নারায়ণগঞ্জে এলো মেট্রোরেল

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শিল্পনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবতার পথে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত এমআরটি লাইন-২ (MRT Line-2) প্রকল্পের। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সরাসরি দ্রুতগতির মেট্রোরেল যোগাযোগের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সরকারি পরিকল্পনাই নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের জনদাবি, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলন। নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে জনমত গঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি পৌঁছে দিতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘নিউ জেনারেশন বাংলাদেশ’ (এনজিবি) ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে।

সংগঠনটির তরুণ সদস্যরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং লবিং কার্যক্রমও চালানো হয়। শুরুতে উদ্যোগটি নিয়ে নানা সংশয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য থাকলেও তারা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে এনজিবির কার্যক্রম আরও জোরালো হয়।

২৬ আগস্ট ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলামের কাছে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।

এরপর ধারাবাহিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মোট ছয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।

নেপথ্যে যেসব তরুণ

নারায়ণগঞ্জের মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠপর্যায় থেকে প্রশাসনিক পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন মেহরাব প্রভাত, আলিফ দেওয়ান, মোয়াজ্জেম হোসেন সাগর, সোহাইল ইসলাম ইফতি, ফাহিম মুন্তাসির শুভ, মো. তাওহীদ ইসলাম, ডা. অঞ্জন দাস ও মো. সিয়াম।

তাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তকে নিজেদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছে এনজিবি।

‘এই জয় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর’

তবে প্রকল্পের নীতিগত ঘোষণা আসার পর কৃতিত্ব দাবি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনজিবির নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, প্রকল্পের সম্ভাব্য সাফল্য সামনে আসার পর তাদের অনেকেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এনজিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “লড়াইয়ের কঠিন দিনগুলোতে যাদের আমরা পাশে পাইনি, আজ সাফল্য দেখে তাদের অনেকেই ‘ক্রেডিট’ বা ‘ছবির রাজনীতি’ করতে সামনে আসছেন। তবে আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এই জয় কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর নয়; এই জয় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর।”

তারা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই প্রকল্পকে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপশক্তি যেন বিতর্কিত করতে না পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এনজিবির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করা হয়েছে, যাতে মেট্রোরেল প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়ে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ থেকে জনমত গঠন: যেভাবে নারায়ণগঞ্জে এলো মেট্রোরেল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাঁপ থেকে জনমত গঠন: যেভাবে নারায়ণগঞ্জে এলো মেট্রোরেল

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে শিল্পনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবার বাস্তবতার পথে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বহুল প্রত্যাশিত এমআরটি লাইন-২ (MRT Line-2) প্রকল্পের। এর মাধ্যমে আগামী এক দশকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সরাসরি দ্রুতগতির মেট্রোরেল যোগাযোগের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সরকারি পরিকল্পনাই নয়, রয়েছে দীর্ঘদিনের জনদাবি, ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলন। নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে জনমত গঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি পৌঁছে দিতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘নিউ জেনারেশন বাংলাদেশ’ (এনজিবি) ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছে।

সংগঠনটির তরুণ সদস্যরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং লবিং কার্যক্রমও চালানো হয়। শুরুতে উদ্যোগটি নিয়ে নানা সংশয় ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য থাকলেও তারা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।

যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে নারায়ণগঞ্জে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে এনজিবির কার্যক্রম আরও জোরালো হয়।

২৬ আগস্ট ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মঈনুল ইসলামের কাছে প্রথম আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৫: নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষের গণস্বাক্ষর সংবলিত একটি স্মারকলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫: ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।

এরপর ধারাবাহিকভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মোট ছয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রকল্পটির যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।

নেপথ্যে যেসব তরুণ

নারায়ণগঞ্জের মেট্রোরেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠপর্যায় থেকে প্রশাসনিক পর্যায় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন মেহরাব প্রভাত, আলিফ দেওয়ান, মোয়াজ্জেম হোসেন সাগর, সোহাইল ইসলাম ইফতি, ফাহিম মুন্তাসির শুভ, মো. তাওহীদ ইসলাম, ডা. অঞ্জন দাস ও মো. সিয়াম।

তাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রকল্পটি নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তকে নিজেদের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছে এনজিবি।

‘এই জয় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর’

তবে প্রকল্পের নীতিগত ঘোষণা আসার পর কৃতিত্ব দাবি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনজিবির নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, প্রকল্পের সম্ভাব্য সাফল্য সামনে আসার পর তাদের অনেকেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এনজিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “লড়াইয়ের কঠিন দিনগুলোতে যাদের আমরা পাশে পাইনি, আজ সাফল্য দেখে তাদের অনেকেই ‘ক্রেডিট’ বা ‘ছবির রাজনীতি’ করতে সামনে আসছেন। তবে আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এই জয় কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর নয়; এই জয় পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর।”

তারা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই প্রকল্পকে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা অপশক্তি যেন বিতর্কিত করতে না পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুচারুভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এনজিবির পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশবাসীর সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করা হয়েছে, যাতে মেট্রোরেল প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়ে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ