বি পি নিউজ ২৪

৬১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জে আসছে মেট্রোরেল


প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

৬১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জে আসছে মেট্রোরেল
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের গণপরিবহন সংকট ও যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মোট ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কথা রয়েছে। এই রুটের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে সরাসরি নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার দ্রুতগতির গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ ২০৩৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী দ্রুত ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে নারায়ণগঞ্জের যাত্রীদের রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন একটি দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হবে।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কপথে যানজট একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কর্মদিবসে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। পাশাপাশি গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ, সময়ের অপচয় ও ভোগান্তিও নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেট্রোরেল চালু হলে নির্দিষ্ট রুটে দ্রুতগতিতে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে দৈনন্দিন যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্পনগরীর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে পরিবর্তনের আশা

নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। একইভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ নারায়ণগঞ্জে আসেন।

এ কারণে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পটি শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও গতি আসতে পারে।

যানজট কমানোর সম্ভাবনা

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী যানজট। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিনই যানবাহনের চাপ দেখা যায়। মেট্রোরেল চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়ক পরিবহনের পরিবর্তে রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

ফলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য গণপরিবহনের চাপ কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

তবে যানজট পুরোপুরি নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি কার্যকর ফিডার সার্ভিস, বাস রুট ব্যবস্থাপনা, পার্কিং ব্যবস্থা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০৩৬ সালের লক্ষ্য

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সরাসরি মেট্রোরেল যোগাযোগ স্থাপনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই কমার প্রত্যাশা করছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ২০৩৬ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসী মেট্রোরেল সেবার আওতায় আসতে পারেন। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, নকশা, নির্মাণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়সূচি।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে গাবতলী–পুরান ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ করিডোরে মেট্রোরেল চালু হওয়া হবে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন। এতে রাজধানীর সঙ্গে শিল্পনগরীর যাতায়াত আরও দ্রুত, আধুনিক ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ার পথ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


৬১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জে আসছে মেট্রোরেল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের গণপরিবহন সংকট ও যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় মোট ৩০ দশমিক ৪ কিলোমিটার মেট্রোরেল রুট নির্মাণের কথা রয়েছে। এই রুটের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে সরাসরি নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার দ্রুতগতির গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির কাজ ২০৩৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী দ্রুত ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এবং ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।

গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ গাবতলী থেকে শুরু হয়ে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে নারায়ণগঞ্জের যাত্রীদের রাজধানীর কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন একটি দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হবে।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে সড়কপথে যানজট একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কর্মদিবসে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। পাশাপাশি গণপরিবহনে অতিরিক্ত চাপ, সময়ের অপচয় ও ভোগান্তিও নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মেট্রোরেল চালু হলে নির্দিষ্ট রুটে দ্রুতগতিতে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে সড়কপথের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে দৈনন্দিন যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্পনগরীর সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে পরিবর্তনের আশা

নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। একইভাবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকেও মানুষ নারায়ণগঞ্জে আসেন।

এ কারণে প্রস্তাবিত মেট্রোরেল প্রকল্পটি শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও গতি আসতে পারে।

যানজট কমানোর সম্ভাবনা

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম প্রধান সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী যানজট। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিনই যানবাহনের চাপ দেখা যায়। মেট্রোরেল চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়ক পরিবহনের পরিবর্তে রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

ফলে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য গণপরিবহনের চাপ কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে।

তবে যানজট পুরোপুরি নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি কার্যকর ফিডার সার্ভিস, বাস রুট ব্যবস্থাপনা, পার্কিং ব্যবস্থা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

২০৩৬ সালের লক্ষ্য

প্রস্তাবিত এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সরাসরি মেট্রোরেল যোগাযোগ স্থাপনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট অনেকটাই কমার প্রত্যাশা করছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে ২০৩৬ সালের মধ্যে নারায়ণগঞ্জবাসী মেট্রোরেল সেবার আওতায় আসতে পারেন। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অর্থায়ন, নকশা, নির্মাণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়সূচি।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে গাবতলী–পুরান ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ করিডোরে মেট্রোরেল চালু হওয়া হবে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন। এতে রাজধানীর সঙ্গে শিল্পনগরীর যাতায়াত আরও দ্রুত, আধুনিক ও সময়সাশ্রয়ী হওয়ার পথ তৈরি হবে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ