বি পি নিউজ ২৪

চাষাড়ায় শুভ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩


প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চাষাড়ায় শুভ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত অবস্থায় যুবক শুভ চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনার পর ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে রাস্তা থেকে শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে গুলির পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত শুভ চন্দ্র দাস গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অনিক ও সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ বলছে, এ কাজে সোহানকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দেওয়ার কথা ছিল।

ডিবির তথ্যমতে, শুভ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিক ও অহিদ গুলি চালায় এবং তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শুভকে আঘাত করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)। তাদের মধ্যে সুমনের স্থায়ী বাড়ি সদর উপজেলার আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি বন্দর থানার খানবাড়ি মোড় এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। অন্য দুইজনের বাড়ি আমলাপাড়া এলাকায়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চাষাড়ায় শুভ হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাহত অবস্থায় যুবক শুভ চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনার পর ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামলের সামনে রাস্তা থেকে শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। তার শরীরে গুলির পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত শুভ চন্দ্র দাস গলাচিপা এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ৫ সেপ্টেম্বর পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অনিক ও সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য শুভর সহযোগী সোহানকে ব্যবহার করে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। পুলিশ বলছে, এ কাজে সোহানকে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট দেওয়ার কথা ছিল।

ডিবির তথ্যমতে, শুভ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অনিক ও অহিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অনিক ও অহিদ গুলি চালায় এবং তাদের সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শুভকে আঘাত করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও মো. সোহান (২৪)। তাদের মধ্যে সুমনের স্থায়ী বাড়ি সদর উপজেলার আমলাপাড়া মাদ্রাসাপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তিনি বন্দর থানার খানবাড়ি মোড় এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। অন্য দুইজনের বাড়ি আমলাপাড়া এলাকায়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ