মুকুলকে নিয়ে সমালোচনায় চুপ নয় ছেলে রেজানুর, দিলেন কড়া জবাব
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তার ছেলে রেজানুর রহমান। দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি বাবার রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় ভূমিকার পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।
স্ট্যাটাসে রেজানুর রহমানের মূল অভিযোগ, আতাউর রহমান মুকুলকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলে তাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুকুল কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের রাজনীতি করেননি; বরং নিজের সামর্থ্য ও সম্পদ ব্যয় করে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।
দীর্ঘ সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে রেজানুর বলেন, ওই সময়ে মুকুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, দল ও দলের নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করতে গিয়ে মুকুল নিজের পারিবারিক ভবিষ্যতের চেয়েও রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাবাকে নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে স্ট্যাটাসে রেজানুর প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেই যদি কাউকে দালাল বলা হয়, তাহলে একই মাপকাঠি অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে মুকুলকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ডও মানুষের অজানা নয়। তার দাবি, রাজনীতির নানা সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করা ব্যক্তিরাই এখন অন্যদের আনুগত্য ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে অবহেলিত ও বঞ্চিত। অন্যদিকে অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সমালোচিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখন রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুকুলের দলীয় অবদান প্রসঙ্গে রেজানুর রহমান বলেন, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় বিএনপি ও ধানের শীষের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে তার বাবার ভূমিকা স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানেন। গত ১৭ বছরে দলের জন্য কার অবদান কতটুকু, সেটি নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজানুর। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত হলে মুকুলকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দলীয়ভাবে বিতর্ক ও নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও এর দায় মুকুলের ওপর পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, মুকুল কঠিন সময়েও দলের বাইরে গিয়ে কোনো পথ বেছে নেননি এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেননি। সাময়িক রাজনৈতিক প্রতিকূলতা দেখে কেউ যদি তার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি ভাবেন, তবে সেটি ভুল ধারণা বলে মন্তব্য করেন রেজানুর।
নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপির কর্মী হিসেবে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছেড়ে দেবেন না। তিনি লেখেন, ‘সব করব, কিন্তু হার মানব না।’ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ পর্যন্ত অন্তত এই কথাটি বলতে পারবেন যে, ‘মেরুদণ্ড সোজা করে ছিলাম, বাঁকা করিনি।’
এ বিষয়টিকে নিজের প্রথম ও শেষ প্রকাশ্য বক্তব্য উল্লেখ করে রেজানুর রহমান বলেন, আপাতত তিনি সবকিছু দেখছেন ও শুনছেন। তবে সময় হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি কথা হবে বলেও স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক না কেন, তা স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বিএনপির প্রতি নিজের পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, রেজানুর রহমান তার ফেসবুক পরিচয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত এবং অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস পার্টির সদস্য বলেও উল্লেখ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মুকুলকে নিয়ে সমালোচনায় চুপ নয় ছেলে রেজানুর, দিলেন কড়া জবাব
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলকে নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তার ছেলে রেজানুর রহমান। দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি বাবার রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় ভূমিকার পক্ষে কথা বলার পাশাপাশি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন।
স্ট্যাটাসে রেজানুর রহমানের মূল অভিযোগ, আতাউর রহমান মুকুলকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করলে তাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুকুল কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে দলের রাজনীতি করেননি; বরং নিজের সামর্থ্য ও সম্পদ ব্যয় করে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন।
দীর্ঘ সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ টেনে রেজানুর বলেন, ওই সময়ে মুকুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, দল ও দলের নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করতে গিয়ে মুকুল নিজের পারিবারিক ভবিষ্যতের চেয়েও রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বাবাকে নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে স্ট্যাটাসে রেজানুর প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেই যদি কাউকে দালাল বলা হয়, তাহলে একই মাপকাঠি অন্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে মুকুলকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ডও মানুষের অজানা নয়। তার দাবি, রাজনীতির নানা সময়ে অবস্থান পরিবর্তন করা ব্যক্তিরাই এখন অন্যদের আনুগত্য ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে অবহেলিত ও বঞ্চিত। অন্যদিকে অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা সমালোচিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ এখন রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুকুলের দলীয় অবদান প্রসঙ্গে রেজানুর রহমান বলেন, বিশেষ করে বন্দর এলাকায় বিএনপি ও ধানের শীষের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে তার বাবার ভূমিকা স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানেন। গত ১৭ বছরে দলের জন্য কার অবদান কতটুকু, সেটি নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজানুর। তার অভিযোগ, ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত হলে মুকুলকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দলীয়ভাবে বিতর্ক ও নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও এর দায় মুকুলের ওপর পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, মুকুল কঠিন সময়েও দলের বাইরে গিয়ে কোনো পথ বেছে নেননি এবং রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেননি। সাময়িক রাজনৈতিক প্রতিকূলতা দেখে কেউ যদি তার রাজনৈতিক যাত্রার সমাপ্তি ভাবেন, তবে সেটি ভুল ধারণা বলে মন্তব্য করেন রেজানুর।
নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপির কর্মী হিসেবে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও হাল ছেড়ে দেবেন না। তিনি লেখেন, ‘সব করব, কিন্তু হার মানব না।’ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ পর্যন্ত অন্তত এই কথাটি বলতে পারবেন যে, ‘মেরুদণ্ড সোজা করে ছিলাম, বাঁকা করিনি।’
এ বিষয়টিকে নিজের প্রথম ও শেষ প্রকাশ্য বক্তব্য উল্লেখ করে রেজানুর রহমান বলেন, আপাতত তিনি সবকিছু দেখছেন ও শুনছেন। তবে সময় হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি কথা হবে বলেও স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক না কেন, তা স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বিএনপির প্রতি নিজের পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, রেজানুর রহমান তার ফেসবুক পরিচয়ে বিএনপি অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানে ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত এবং অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস পার্টির সদস্য বলেও উল্লেখ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন