বি পি নিউজ ২৪

শামীম-অয়ন-আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় সশস্ত্র হামলা, সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে


প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শামীম-অয়ন-আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় সশস্ত্র হামলা, সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় সশস্ত্র হামলার সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সংঘটিত ওই হামলায় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও বহু মানুষ হতাহত হন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে জবানবন্দি দেন কাউসার আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন তিনি।

৫১ বছর বয়সী কাউসার আহমেদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। সরকারি গেজেটে তিনি ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাউসার আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি চাষাঢ়া এলাকায় যান। দুপুরের দিকে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই হামলায় অংশ নেয়। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, ওই দলে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদসহ কয়েকজন ছিলেন।

কাউসারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ছোড়া গুলিতে তার বাম পায়ে আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে তাকে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে গুলি অপসারণ করা সম্ভব নয় বলে জানান। পরে ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয় বলে আদালতকে জানান কাউসার আহমেদ।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই দিনের হামলায় তার পাশাপাশি আরও অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় স্বজন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার কথাও তিনি তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন।

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন কাউসার আহমেদ।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও আবদুল্লাহ আল নোমান।

মামলার ১২ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্রকে আসামি করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শামীম-অয়ন-আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় সশস্ত্র হামলা, সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে চাষাঢ়ায় সশস্ত্র হামলার সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সংঘটিত ওই হামলায় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও বহু মানুষ হতাহত হন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে জবানবন্দি দেন কাউসার আহমেদ।

নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জন আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন তিনি।

৫১ বছর বয়সী কাউসার আহমেদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে মহানগর শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। সরকারি গেজেটে তিনি ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কাউসার আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি চাষাঢ়া এলাকায় যান। দুপুরের দিকে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনের এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তার দাবি, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই হামলায় অংশ নেয়। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, ওই দলে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদসহ কয়েকজন ছিলেন।

কাউসারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ছোড়া গুলিতে তার বাম পায়ে আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে তাকে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে তিনি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে গুলি অপসারণ করা সম্ভব নয় বলে জানান। পরে ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয় বলে আদালতকে জানান কাউসার আহমেদ।

তিনি আরও দাবি করেন, ওই দিনের হামলায় তার পাশাপাশি আরও অনেক আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় স্বজন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার কথাও তিনি তার সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন।

শামীম ওসমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন কাউসার আহমেদ।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন, আলী হায়দার ও মুসতাভী হাসান রাতুল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ও আবদুল্লাহ আল নোমান।

মামলার ১২ আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ এবং সোহানুর রহমান শুভ্রকে আসামি করা হয়েছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ