দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু ওষুধ প্রয়োগ কিংবা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শুধু টিকাদান কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত শিশুদের হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, সঠিক পরিচর্যা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু ওষুধ প্রয়োগ কিংবা কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবার থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শুধু টিকাদান কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত শিশুদের হামজনিত জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, সঠিক পরিচর্যা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন