বি পি নিউজ ২৪

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাসভাড়া ৫৫ টাকা ও হাফ পাসের দাবিতে ছাত্রজোটের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম


প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাসভাড়া ৫৫ টাকা ও হাফ পাসের দাবিতে ছাত্রজোটের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা ভাড়ায় হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সাত ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এ আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। তাঁদের দাবি, আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়া কমানো ও শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজোটের নেতারা বলেন, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নতুন ভাড়ার বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া শুরু করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ছাত্রজোটের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোল যুক্ত করলেও এ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তবে এ বিষয়ে পরিবহন মালিকপক্ষের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৫ টাকা কার্যকর করার পাশাপাশি সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো, যাত্রীদের ভাড়ার রসিদ দেওয়া এবং ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচ ও টোলের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং রেলপথে ট্রেন ও বগির সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও করেন ছাত্রনেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরটিসি বাস সার্ভিস সীমিত রাখা এবং ট্রেনে বগির সংখ্যা কমিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তাঁরা। পাশাপাশি পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রনেতারা মালিকদের বিরুদ্ধে ‘মাফিয়াতন্ত্র ও সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগ করেন।

দলীয় মতপার্থক্য দূরে রেখে সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান জোটের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের স্থানীয় একটি অংশ শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।

‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’-এর অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলো হলো—বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সম্পাদক কামরুল হাসান মিরাজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সিয়াম, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের জেলা আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগঠক মো. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাসভাড়া ৫৫ টাকা ও হাফ পাসের দাবিতে ছাত্রজোটের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া কমিয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা ভাড়ায় হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে সাত ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের নেতারা এ আলটিমেটাম ঘোষণা করেন। তাঁদের দাবি, আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়া কমানো ও শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন জোরদার করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর ৬ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজোটের নেতারা বলেন, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নতুন ভাড়ার বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘উৎসব’ ও ‘বন্ধন’ পরিবহন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা ভাড়া নেওয়া শুরু করে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

ছাত্রজোটের দাবি, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া ও দূরত্বের হিসাব অনুযায়ী ফ্লাইওভারের টোল যুক্ত করলেও এ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। তবে এ বিষয়ে পরিবহন মালিকপক্ষের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের সর্বোচ্চ ভাড়া ৫৫ টাকা কার্যকর করার পাশাপাশি সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো, যাত্রীদের ভাড়ার রসিদ দেওয়া এবং ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচ ও টোলের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাসের সংখ্যা বাড়ানো এবং রেলপথে ট্রেন ও বগির সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও করেন ছাত্রনেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের সুবিধা দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিআরটিসি বাস সার্ভিস সীমিত রাখা এবং ট্রেনে বগির সংখ্যা কমিয়ে রাখার অভিযোগও করেন তাঁরা। পাশাপাশি পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রনেতারা মালিকদের বিরুদ্ধে ‘মাফিয়াতন্ত্র ও সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগ করেন।

দলীয় মতপার্থক্য দূরে রেখে সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান জোটের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, ছাত্রদলের স্থানীয় একটি অংশ শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিলেও প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।

‘পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য’-এর অন্তর্ভুক্ত সংগঠনগুলো হলো—বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মৌমিতা নূর, জাতীয় ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, জেলা আহ্বায়ক মাহফুজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সম্পাদক কামরুল হাসান মিরাজ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম সিয়াম, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের জেলা আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সংগঠক মো. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ