নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড-ছিনতাই-চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ, কার্যকর পদক্ষেপ চান এবিএম সিরাজুল মামুন
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় নগর পাঠাগার মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার বাছাইকৃত অগ্রসর দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তরবিয়তী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, কর্মস্থলে যাওয়া, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় চলাচলের সময় মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হলে তা জনজীবনের জন্য উদ্বেগজনক। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কেবল আশ্বাস দিলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক আরিফ আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীর পরিচয় কিংবা প্রভাব যা-ই হোক, আইনের প্রয়োগে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দারসুল কোরআন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও প্র্যাকটিক্যাল ওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি ছিল।
সভায় দারসুল কোরআন পেশ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ সালাহউদ্দীন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর সহসভাপতি ডা. শামীম ভূঁইয়া।
মহানগর সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, জেলা সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী ও মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, বন্দর থানা পশ্চিম সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামান এবং ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ এবং ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড-ছিনতাই-চাঁদাবাজি নিয়ে উদ্বেগ, কার্যকর পদক্ষেপ চান এবিএম সিরাজুল মামুন
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় নগর পাঠাগার মিলনায়তনে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার বাছাইকৃত অগ্রসর দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত তরবিয়তী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, কর্মস্থলে যাওয়া, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তায় চলাচলের সময় মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হলে তা জনজীবনের জন্য উদ্বেগজনক। ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আতঙ্ক থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কেবল আশ্বাস দিলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক শীতলক্ষ্যার সম্পাদক আরিফ আলম দিপুর ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ নাগরিকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীর পরিচয় কিংবা প্রভাব যা-ই হোক, আইনের প্রয়োগে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দারসুল কোরআন, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও প্র্যাকটিক্যাল ওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি ছিল।
সভায় দারসুল কোরআন পেশ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ সালাহউদ্দীন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর সহসভাপতি ডা. শামীম ভূঁইয়া।
মহানগর সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, জেলা সহসাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী ও মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, বন্দর থানা পশ্চিম সভাপতি হাফেজ মাওলানা ফরিদুজ্জামান এবং ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ এবং ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন