বন্দরে ‘ময়না ক্লিনিকে’ নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকটির মালিক চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল। অভিযোগটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে স্ত্রীর প্রসবের জন্য বন্দর থানার আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাট সংলগ্ন ‘ময়না ক্লিনিকে’ ভর্তি করান পেশায় রাজমিস্ত্রি হোসেন রয়েল। ওই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
শিশু জন্মের পর থেকেই কান্নাকাটি করছিল বলে দাবি করেন বাবা রয়েল। বিষয়টি চিকিৎসক ময়না বেগমকে জানালে শিশুর কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়েলের অভিযোগ, শনিবার সকাল থেকে শিশুটির কান্না বাড়তে থাকলেও চিকিৎসককে ফোনে জানানোর পরও তিনি ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেননি। কর্মরত নার্সদের চিকিৎসক ডেকে আনার অনুরোধ করেও সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সের পরামর্শে আবার চিকিৎসক ময়না বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রয়েল। তাঁকে বন্দর থানার ঝাউতলা এলাকার চিকিৎসক স্বপনের কাছে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে তাঁর সহকারীর কাছে অনুরোধ করেও চিকিৎসা পাননি বলে দাবি করেন শিশুটির বাবা।
এরপর ময়না বেগমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলে তাঁকে নিজের চেম্বারে যেতে বলা হয়। সেখানেও চিকিৎসককে না পেয়ে পরে ফরাজীকান্দা এলাকার চিকিৎসক দিপুর কাছে যাওয়ার পরামর্শ পান বলে অভিযোগ করেন রয়েল। সেখানেও চিকিৎসককে না পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসক আসবেন বলে তাঁর সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে নবজাতককে ময়না ক্লিনিকে ফিরিয়ে নেওয়া হলে চিকিৎসক নিজে উপস্থিত না থেকে ফোনে নার্সদের অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। অক্সিজেন দেওয়ার পর শিশুটির কান্না বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে নার্সদের কাছে জানতে চেয়েও কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন রয়েল।
পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক ময়না বেগম শিশুটিকে দ্রুত মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির বাবা দাবি করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রায় এক ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছিল বলে তাঁকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে চিকিৎসায় অবহেলা ও সময়মতো সেবা না পাওয়াকে সন্তানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন হোসেন রয়েল। তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার বলেন, মৃত্যুর আগে শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তাঁদের দাবি, নবজাতককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে। তবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ‘ময়না ক্লিনিকে’ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ক্লিনিকটির বৈধতা যাচাই করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বন্দরে ‘ময়না ক্লিনিকে’ নবজাতকের মৃত্যু, চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্লিনিকটির মালিক চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল। অভিযোগটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে স্ত্রীর প্রসবের জন্য বন্দর থানার আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাট সংলগ্ন ‘ময়না ক্লিনিকে’ ভর্তি করান পেশায় রাজমিস্ত্রি হোসেন রয়েল। ওই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
শিশু জন্মের পর থেকেই কান্নাকাটি করছিল বলে দাবি করেন বাবা রয়েল। বিষয়টি চিকিৎসক ময়না বেগমকে জানালে শিশুর কোনো সমস্যা নেই বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়েলের অভিযোগ, শনিবার সকাল থেকে শিশুটির কান্না বাড়তে থাকলেও চিকিৎসককে ফোনে জানানোর পরও তিনি ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেননি। কর্মরত নার্সদের চিকিৎসক ডেকে আনার অনুরোধ করেও সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সের পরামর্শে আবার চিকিৎসক ময়না বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রয়েল। তাঁকে বন্দর থানার ঝাউতলা এলাকার চিকিৎসক স্বপনের কাছে যেতে বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে না পেয়ে তাঁর সহকারীর কাছে অনুরোধ করেও চিকিৎসা পাননি বলে দাবি করেন শিশুটির বাবা।
এরপর ময়না বেগমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলে তাঁকে নিজের চেম্বারে যেতে বলা হয়। সেখানেও চিকিৎসককে না পেয়ে পরে ফরাজীকান্দা এলাকার চিকিৎসক দিপুর কাছে যাওয়ার পরামর্শ পান বলে অভিযোগ করেন রয়েল। সেখানেও চিকিৎসককে না পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসক আসবেন বলে তাঁর সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে নবজাতককে ময়না ক্লিনিকে ফিরিয়ে নেওয়া হলে চিকিৎসক নিজে উপস্থিত না থেকে ফোনে নার্সদের অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। অক্সিজেন দেওয়ার পর শিশুটির কান্না বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে নার্সদের কাছে জানতে চেয়েও কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন রয়েল।
পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক ময়না বেগম শিশুটিকে দ্রুত মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির বাবা দাবি করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রায় এক ঘণ্টা আগে তার মৃত্যু হয়েছিল বলে তাঁকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় শনিবার বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে চিকিৎসায় অবহেলা ও সময়মতো সেবা না পাওয়াকে সন্তানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন হোসেন রয়েল। তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার বলেন, মৃত্যুর আগে শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তাঁদের দাবি, নবজাতককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, সিভিল সার্জনের নির্দেশে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলার বিষয় উঠে এসেছে। তবে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ‘ময়না ক্লিনিকে’ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ক্লিনিকটির বৈধতা যাচাই করে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন