বি পি নিউজ ২৪

মুক্তাকান্দি স্কুলে শিক্ষা মন্ত্রী মিলনের ভূমিকায় ছিল আক্তারুজ্জামান



মুক্তাকান্দি স্কুলে শিক্ষা মন্ত্রী মিলনের ভূমিকায় ছিল আক্তারুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জের মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামানকে এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্তারুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যালয়টি ছিল টিনশেড ঘর ও মাত্র দুটি কক্ষের ছোট একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া তার দায়িত্বকালেই বিদ্যালয়ে পাঁচতলা বিশিষ্ট আধুনিক সরকারি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এলাকাবাসীর মতে, তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, দৌড়ঝাঁপ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণেই বিদ্যালয়টি এত বড় সরকারি ভবন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলন যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দেন, আক্তারুজ্জামানও অনেকটা সেই ধরণের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতেন।

তিনি প্রায়ই হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস পরিদর্শন করতেন, শিক্ষকদের পাঠদানের মান যাচাই করতেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। তার দায়িত্বকালে বিদ্যালয়ে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় ছিল বলে জানান সাবেক শিক্ষার্থীরা। কোনো শিক্ষার্থী বড় চুল রেখে স্কুলে আসতে পারত না এবং নির্ধারিত স্কুল ড্রেস ছাড়া কাউকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন।

শুধু প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। খারাপ ফলাফল হলে অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করতেন, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিতেন।

তার সভাপতিত্বকালে বিদ্যালয়ের এসএসসি ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫সহ ভালো ফলাফল করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনে। স্থানীয়রা জানান, ওই সময় মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল ও শৃঙ্খলার সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিবছর ভর্তির চাপও বাড়তে থাকে।

শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও ছিল তার বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবছর জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, খেলাধুলা ও শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নিজ অর্থায়নে কক্সবাজার, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা সফরে পাঠাতেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হলেও তার সময়ের শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এখনো বিদ্যালয়ের মানুষ স্মরণ করে। অনেকেই মনে করেন, মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে আক্তারুজ্জামানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আপনার মতামত লিখুন

বি পি নিউজ ২৪

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


মুক্তাকান্দি স্কুলে শিক্ষা মন্ত্রী মিলনের ভূমিকায় ছিল আক্তারুজ্জামান

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামানকে এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকরা। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্তারুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যালয়টি ছিল টিনশেড ঘর ও মাত্র দুটি কক্ষের ছোট একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া তার দায়িত্বকালেই বিদ্যালয়ে পাঁচতলা বিশিষ্ট আধুনিক সরকারি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এলাকাবাসীর মতে, তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা, দৌড়ঝাঁপ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণেই বিদ্যালয়টি এত বড় সরকারি ভবন পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলন যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনিটরিং, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দেন, আক্তারুজ্জামানও অনেকটা সেই ধরণের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতেন।

তিনি প্রায়ই হঠাৎ করে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস পরিদর্শন করতেন, শিক্ষকদের পাঠদানের মান যাচাই করতেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নিতেন। তার দায়িত্বকালে বিদ্যালয়ে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় ছিল বলে জানান সাবেক শিক্ষার্থীরা। কোনো শিক্ষার্থী বড় চুল রেখে স্কুলে আসতে পারত না এবং নির্ধারিত স্কুল ড্রেস ছাড়া কাউকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হতো না। শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন।

শুধু প্রশাসনিক কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তিনি। খারাপ ফলাফল হলে অভিভাবকদের নিয়ে বৈঠক করতেন, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিতেন।

তার সভাপতিত্বকালে বিদ্যালয়ের এসএসসি ফলাফলেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫সহ ভালো ফলাফল করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনে। স্থানীয়রা জানান, ওই সময় মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল ও শৃঙ্খলার সুনাম ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিবছর ভর্তির চাপও বাড়তে থাকে।

শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও ছিল তার বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবছর জাতীয় দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হতো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, খেলাধুলা ও শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও নিজ অর্থায়নে কক্সবাজার, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা সফরে পাঠাতেন তিনি।

স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হলেও তার সময়ের শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এখনো বিদ্যালয়ের মানুষ স্মরণ করে। অনেকেই মনে করেন, মুক্তারকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে আক্তারুজ্জামানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


বি পি নিউজ ২৪

সম্পাদক ও প্রকাশক: আরিফুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বি পি নিউজ